কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, আওয়ামীলীগ হল এক দলীয় শাষন ও গনতন্ত্র হত্যাকারী দল। তারা যখনি ক্ষমতায় আসে তারা গনতন্ত্রকে হত্যা করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাষন ব্যবস্থা কায়েম করে।
তিনি শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে,ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে , সাম্য সাম্প্রীতি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।
হিষখোচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম,সহ-সভাপতি ও আদিতমা-কালীগঞ্জ আসনের বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল,জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হেসেন,পৌর বিএনপি সভাপতিত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মমিনুল হক,উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম,সদস্য সচিব সালেকুজ্জামান প্রামানিক, যুগ্ন আহবায়ক সহকারী অধ্যাপক নাদিরুল ইসলাম মানিক, যুগ্ন আহবায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী বাবু,যুবদলের আহবায়ক ইদ্রিস আলী প্রমূ্খ। অনুষ্ঠানি সঞ্চালনে ছিলেন সদস্য সচিব হাসানুল হক বান্না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামীলীগ পলায়ন করে এটাই তাদের রীতি এবং পুরনো অভ্যাস। স্বাধিনতার ঊষালগ্নে যখন সারা বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিনতার যুদ্ধের উন্মুখে ঘরে,ঘরে দুর্ঘ তুলার আহবান করলেন তার নেতা শেখ মুজিবুর রহমান আত্নসমর্থন করে পাকিস্থানে পালিয়ে চলে গেলেন আর বাংলাদেশের মানুষের কি অবস্থা দুঃখ করবে না পালিয়ে যাবে তখন মানুষ দিগ দিগান্তে। ঠিক তখনি আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধিনতার ঘোষনা দেন। এটাই করেন বিএনপি আর দেশপ্রেমিক দল,পালিয়ে যায়না আর গনতন্ত্রের দল হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাপক সমর্থন।আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিল যে তাদের নেত্রী নাকি পালাইনা। এখন সে কথা গেল কৈ। এদেশের ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে আজ তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়াছে। আর সেখানে বসে বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে ভারত সরকারকে উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশে যাতে আক্রমন করে।
দুলু বলেন,আমি বলতে চাই স্বাধিনতার সময় ছিল ৭ কোটি মানুষ এখন হল ২০ কোটি মানুষ এখন যদি ছোট করে ষড়যন্ত্র করতে চায় বাংলাদেশের ভূখন্ডে কেউ দৃষ্টি দেয় তাহলে এদেশের ২০ কোটি মানুষ তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিবে। হাসিনা ভারতে বসে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় ষড়যন্ত্র করছে। সর্বশেষ দেশের প্রানকেন্দ্র সচিবালয়ে রাঁতের অন্ধকারে আগুন লাগাইয়া দিয়ে সমস্ত ফাইল নথিপত্র কাগজপত্র ফাইল পুড়ে ছাই করে দিয়েছে। কেন পুড়েছে আওয়ামীলীগ সরকারের অনেক দুর্নীতির ইতিহাস লেখা ছিল।তারা মনে করেছিল ফাইল পুড়িয়ে দিলে বিচার হবে না।আমরা মনে করি বিচার শুরু হতে অপেক্ষা করুন। প্রত্যকটি হত্যাকান্ড দুর্নীতির বিচার পাই পাই করে বিচার মাটিতে নেওয়া হবে।
সাবেক মন্ত্রী বলেন,আওয়ামীলীগ ভাইয়েরা ঐ চেতনা বাদ দেন ভোট চোর দুর্নীতি আর সরকারের বিপক্ষে কথা বললেই নাকি রাজাকার বলত অন্যদিকে তারা নাকি একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার দল। বিগত দিনে এই জেলার মোতারহার নামে মন্ত্রী ছিল তার এলাকায় ৩৫২ জন ভূঁয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছে।এরা সব সময় সব কাজে ভূঁয়া। ভোটে ভূঁয়া, মুক্তিযুদ্ধে ভুঁয়া। আবার বলে স্বাধিনতার চেতনার দল। তারা হল মোনাফেক,কুলাঙ্গার ও দুর্নীতিবাজ।
তাদের নেতা শেখ মুজিব বলেছছিল সেদিকে টাকার দল চোরের দল সেখান থেকে বিশ্ব পায় সোনার খনি আর আমি পাি চোরের খনি। তাহলে বলেন,এটা কি ভাল মানুষের দল। তার মেয়ে কি হবে। যে বাংলাদেশটাকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য পরিনত করেছেেন। অথচ যাদের একটা অটো কেনার সামর্থ্য ছিলনা কুড়ে ঘরে ছিল
আজ তারা কিনা বড় টয়েটো গাড়ি চড়ে বেড়াচ্ছে অন্যদিকে তালায় তালায় ঘর বানাচ্ছে। এই আসনে একজন কেবিনেট মন্ত্রী টানা ১০ বছর ছিল একমাত্র লুটপাটের তান্ডবে মহাব্যস্ত ছিল। এখন পত্রিকায় দেখি ক্যান্সারের যে টাকা সেই টাকা তার পারিবারিক ও আত্নীয় স্বজনের লোকজন উত্তোলন করেছে সবাই আতংক। যে নাকি নাকি দুঃস্থ্য অসহায় আর গরীবের টাকা মেরে খাবে তার উপড় আল্লাহর গজব নাযিল হবে না তো কার উপড় পড়বে। তারা জানোয়ার তাদের কোন লজ্জা নাই। আবার তারা নিজেকে জনগনের সামনে দেশপ্রেমিক বলে।
আওয়ামীলীগ সরকানের টানা বছররের শাষনের সমালোচনা করে বলেন, এই জেলায় ৩ জন মন্ত্রী ছিল মানুষের ভাগ্যর হওয়ার কথা ছিল। কি কাজ করেছে তেমন কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি।লালমনিরহাট-পাটগ্রাম একমাত্র মহাসড়কটি আকা বাকা খাল আর খদ্দরের। ১৬ বছরে তারা কিছুই করেনি। কোন চাকুরী নাই আর চাকুরীর জন্য গেলে তারা আগেই টেন্ডারের রাজত্ব করত। ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকুরী নিতে। ব্যাকার যুবকদের আত্ন কর্মসংস্থানের জন্য কোন শিল্প কারখানা করার চিন্তা চেতনা ছিলনা। ফলে এখানকার বেকার যুবকদের একমাত্র জায়গা ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায়। আজ যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান না থাকায় লাখ লাখ যুবকরা বেকারত্বে ঘুরছে। গ্রামে গ্রামে মাদকাসক্ত হচ্ছে আর তাদের জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এই জেলায় জনগনের একমাত্র দির্ঘদিনের দাবী বিমান মন্ত্রী থাকার পরও চালু হয়নি।
আওয়ামীলীগের স্থানীয় মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সমালোচনা করে দুলু বলেন,মহিষখোচা এলাকার মানুষকে তিস্তা মহিপরিকল্পনা নামে প্রতারনা করেছেন। বার বললেও আজ পর্যন্ত হয়নি। এই পরিকল্পনার নামে কোটি কোটি বরাদ্দ এনে তার দলীয় নেতা কর্মিরা লুটপাট করে খেয়েছে। তিস্তার মানুষে ভাগ্যে উন্নয়নে কোন কাজ করে নি। অথচ বিএনপি আমলে আমি একজন ছোট মন্ত্রী ছিলাম কাজ কর্ম তেমন বুঝেনি। তারপর এই এলাকায় ভাংগনরোধে স্পার বাঁধ তৈরি করে দিয়েছি। তা না হলে আজ মহিষখোচা বাজার ধসে যেত।
পরিশেষে তিস্তা মহাপরিকল্পনা আন্দোলন বাস্তবায়নে জনগনের সঙ্গে থাকতে একটি আন্দোলনের ঘোষনা দেন এবং আন্দোলনের নাম দিয়েছেন জাগো বাহে- তিস্তা বাচাও। সেজন্য তিনি আগামি ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি জনগনের পাশে থেকে ৪৮ ঘন্টা দিন-রাত তিস্তা পাড়ে সাধারন জনগনের সাথে শুয়ে থাকতে চাই।
তিনি আরও বলেন,বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তিস্তা মহিপরিকল্পনায় চায়না সরকার একা কাজ করতে চেয়েছিল। তিস্তা ব্যারেজ হতে গাইবান্ধা ১২০ কিলোমিটার তিস্তা নদী শাষন করা হবে। কিন্তু পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের আপত্তির কারনে চিন আর টাকা দেয় নাই। ফলে আর কাজ করা হয়নি। এখন কি আমরা বসে থাকব কারো কথা কি আর শুনব। আমরা এটাকে আন্দোলনে রুপ নিতে হবে এবং এই অঞ্চলের রিতিকে বদলাতে হবে। আমরাতো আর সরকার আছি যে তিস্তা মহিপরিকল্পনা কবে দিতে পারব। এখন থেকে দাবী উচ্চারিত করতে চাই সাধারন মানুষের কাতারে,কাতারে,কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে আমি তিস্তা পাড়ে ৪৮ ঘন্টা রাত দিন শুয়ে থাকতে চাই ১২০ কিলোমিটার জুরে যেখানে কয়েক লক্ষ নারী-পুরুষরা তাদের বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে থাকবে বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বেরর গণমাধ্যম প্রচার করবে। দেখবে কয়েক লক্ষ লোক তাদের দাবী আদায়ের জন্য শুয়ে আছে। সরকার তখন আমাদের দাবী মেনে নিতে বাধ্য হবে। সে জন্য তিনি প্রতিটি এলাকায়,এলাকায় হোম ভিজিট করবে। পরিশেষে সেই আন্দোলনে সবাইকে পাশে থাকতে আহবান জানান।
এর আগে মহিষখোচা বাজারের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত মালিক আব্দুস সালামের শহীদ মিরাজ নামের ষ্টোরটির ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু।