“স্বাস্থ্যকর গ্রাম গড়ি, শিশুদের এগিয়ে রাখি” স্লোগানকে সামনে রেখে হেলদি ভিলেজ ইন প্রোগ্রাম (স্বাস্থ্যকর শহুরে গ্রাম কর্মসূচি) উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আাজ (২৬ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজিত হেলদি ভিলেজ ইন আরবান প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)- এর যৌথ উদ্যোগে এবং কানাডা সরকারের আর্থিক সহায়তায় র্গ্যান্ড চ্যালেঞ্জ কানাডার (জিসিসি) মাধ্যমে পরিচালিত 'হেলদি ভিলেজ ইন আরবান প্রোগ্রাম (স্বাস্থ্যকর শহরে গ্রাম কর্মসূচী)" লালমনিরহাট জেলার গ্রামীণ ও শহরতলির জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ২০২২ সাল থেকে কাজ করে আসছে। চার বছরব্যাপী (২০২২-২০২৬) এই প্রকল্পটি লালমনিরহাট সদর এবং আদিতমারী উপজেলায় মোট ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১,৫৭,০০০ পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ বৃদ্ধি করে শিশুর খর্বকায় হ্রাসের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে যার ফলে শিশুর খর্বকায় ৩০.৯০% থেকে ২৭.৮০% হ্রাস পেয়েছে। প্রকল্পেটির মূল লক্ষ্য শিশুদের পুষ্টি এবং মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী শিশু ও পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন: বন্যা এবং কোভিড-১৯)-এর প্রভাব মোকাবেলায় লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রকল্পটির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাঁদের অংশগ্রহনে "তরুন তরুণীদের চোখে আদর্শ গ্রাম 'শীর্ষক চিত্রাঙ্কন মেলা এবং দেয়াল চিত্র আঁকার প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও বাড়ির মহিলাদের নিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা প্রদান এর লক্ষ্যে উঠান সভা ও হাটবাজারে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ জন কে সচেতন করতে কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রকল্পটির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ লালমনিরহাটে মঘলহাট ইউনিয়ন এ এক বিশেষ গ্রামীণ মেলা আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও স্যানিটেশনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হবে। মেলায় থাকবে বিভিন্ন আকর্ষণীয় কার্যক্রম এবং স্থানীয় নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য এবং সেবা প্রদর্শন করবেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাক্স ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড.মিথুন গুপ্ত, ফাইনেন্স একাউন্ট এন্ড অ্যাডমিন স্পেশালিষ্ট অমল কুমার কর্মকার, ওয়াশজালু চেইন স্পেশালিষ্ট আমিনুল হক মৃধা, ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ মাসুদ রানা , নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট ড: তফাইল মো: আলমগীর আজাদ, মিল স্পেশালিস্ট মোঃ হাফিজর রহমান প্রমূখ।