লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিন জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র প্রায় ৯ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শুধু টিউশন ফি নয় বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগ দেয়ার আড়াই মাস পেড়িয়ে গেলেও সেই টিউশন ফি’র টাকা নিয়ে কোন সুরাহা পাননি ওই স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ে ২০১২ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন জমিস উদ্দিন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদে দ্বায়িত্বে থাকা জমিস উদ্দিনের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারনে অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারেননি। গত ৫ আগষ্ট আ’লীগ সরকারের পতনের পর ওই বিদ্যালয়ের সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থী, অবিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। সেই সময় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রধান শিক্ষক জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেলে গত ২৭ আগষ্ট স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
আরও জানা যায়, ইতিমধ্যে ওই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন উত্তম কুমার অধিকারী। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংকে গেলে ওই ব্যাংক একাউন্টের ২০১৫ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৪ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত লেনদেনের একটি স্টেটমেন্ট বের করেন। যাতে দেখতে পান বিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার ২শত ৮৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেই অর্থ সম্পর্কে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরা অবগত নন। এ নিয়ে পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি টালবাহানা করেন। ফলে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারীরা জসিম উদ্দিনেে নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ফের একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে দক্ষিন জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার অধিকারী বলেন, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারীরা নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানায়। পরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে ওই প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি স্কুলের ব্যাংক একাউন্টে টাকা লেনদেন করতে গিয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা যায় যে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের ২ জুলাই অবদি প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার ২শত ৮০ টাকা সরকার প্রদত্ত টিউশন ফি তিনি আত্মসাত করেছেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে গত ২৯ সেপ্টম্বরে উপজেলা নির্বাহী বরাবরে একটি অভিযোগ দেয়া হলেও এখন অবদি কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে দক্ষিন জাওরানী আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি । এমনকি তার মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম বলেন, টিউশন ফি আত্মসাতের বিষয়টি জানা নেই। তবে এর আগে ওই প্রধান শিক্ষকের নামে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা বর্তমানে তদন্তাধীন আছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দুলাল হোসেন বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দ্বায়িত্বে আছি। বিষয়টি জানা নেই। আগের ইউএনও স্যার হয়তো বিষয়টি অবগত আছেন। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।