রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে নিয়ে ভারতীয় আচরণ


প্রকাশ :

সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার জন্য ২৫ নভেম্বর গ্রেফতার হন। তার গ্রেফ্তার হওয়ার পর ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিম বাংলায় তোলপাড় শুরু হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেককে তাকে প্রভু বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়। প্রথমে তাকে ইসকনের (ISKCON) নেতা বলা হলেও পরে জানা যায় যে, নৈতিক স্খলনের জন্য তাকে ২০২৩ সালে ইসকন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

Kolkata24 পত্রিকা ২৫/১১/২০২৪ তারিখের সংখ্যায় উল্লেখ করে যে, “আন্তর্জাতিক সংগঠন ইসকনের (ISKCON) বাংলাদেশ শাখা থেকে তিনি আগেই ‘বহিস্কৃত’।” পত্রিকাটিতে তাকে বিতর্কীত বলেও উল্লেখ করা হয়।

২০২৩ সালে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইসকন আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা কার্যালয় (ISKCON International Child Protection Office-CPT, UK) শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উপর ইসকনের নেতৃস্থানীয় পদে না থাকা, শিশুদের সাথে যোগাযোগে বিরত থাকাসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময়ই তাকে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়। সনাতন ধর্মের সাধারণ মানুষের কাছে তার এ পরিচয় জানা নেই। তার প্রকৃত নাম চন্দন কুমার ধর।

বাংলাদেশে ৫ আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ৭ আগষ্ট বর্তমান অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে সনাতন জাগরণ মঞ্চ অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই দিন পর অর্থাৎ ৯ আগষ্ট হতে বাংলাদেশে বিগত ৫০ বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে অত্যাচার হয়েছে অবিলম্বে তার বিচারসহ ৮ দফা দাবী বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন শুরু করে। সনাতন জাগরণ মঞ্চের কাছে প্রশ্ন করা যেতেই পারে; এত দিন, বিশেষ করে বিগত সরকারের ১৫ বছরের বেশি সময় শাসনকালীন এই সমস্যাগুলোর সমাধান কেন করা হয়নি?

এরপর থেকে লাগাতার সমাবেশ করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তিনি এক সমাবেশে হুমকী দিয়ে বলেন, “কেও যদি আমাদের (হিন্দুদের) উৎখাত করে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করেন, তাহলে এই ভুমি আফগানিস্থান হবে, সিরিয়া হবে।”

 নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে হাজারী গলিতে সেনাবাহীনি ও পুলিশের উপর চিন্ময় সমর্থকরা এসিড নিক্ষেপ করে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম লিখছে যে, দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্যই তারা এ সকল কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এটা প্রতিবেশি একটি দেশসহ সকলকে মনে রাখতে হবে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এবং তার সংগঠন সনাতন জাগরণ মঞ্চকে বাংলাদেশের উপরে স্থান দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বা যে কাওকে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী গ্রেফ্তার করা যেতে পারে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেক্ষেত্রে আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা। বিগত সরকারের আমলে অনেক ক্ষেত্রে যেটা করা হত না।

আমরা দেখতে পায় সুস্পস্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফ্তার করা হয়েছে এবং গ্রেফ্তারের পর দিনই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করা হয়েছে। সেখানে তার জামিন আবেদনের পক্ষে ৫১ জন আইনজীবি যুক্তি-তর্ক তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ শুনানীর পর ম্যাসিস্ট্রেট তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এই স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে কারো কোন প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবেদনকারী পক্ষ সংক্ষুব্দ হলে উর্ধ্বতন আদালতে আবেদন করতে পারেন। এটাই বিশ্বজনীন স্বীকৃত বিচারিক প্রক্রিয়া।

বরঞ্চ সে দিন (২৬ নভেম্বর, ২০২৪) চিন্ময় সমর্থকরা প্রকাশ্য দিবালোকে আদালত প্রাঙ্গনে যে তান্ডব চালিয়েছে এবং সরকারী আইনজীবিকে যে নৃসংশভাবে হত্যা করেছে তা নজীরবিহীন। তার জামিন না-মঞ্জুর করা যে যৌক্তিক ছিল, এই নৃশংস ঘটনা তার ঘটনা উত্তর (Post Facto) প্রমাণ। তার জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন হলে নিশ্চয় সরকার পক্ষের আইনজীবিগণ তার জামিন না-মঞ্জুরের যুক্তি হিসেবে তার সমর্থকদের উচ্ছৃংখল আচরণ এবং আইনজীবির নৃশংস হত্যাকান্ডের বিষয়টি তুলে ধরবেন।

এই হত্যার পর নিহতের বাবা, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ধৈর্য ধারণের জন্য সকলের প্রতি যে আহ্বান করেছেন সেটা অতুলনীয়। এমন একটি নৃশংস হত্যাকান্ডের পরও যে কোন ভায়োলেন্স হয়নি, সেটা প্রসংশার দাবী রাখে। আবারও প্রমাণ হল বাংলাদেশের জনগণ অনেক উন্নত মানষিকতার এবং বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এটাই বাংলাদেশের বিজয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করবে ইনশাল্লাহ।

চিন্ময় কুষ্ঞ দাসের গ্রেফ্তার এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ও পশ্চিম বাংলার কিছু মানুষ এবং মিডিয়ার যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সেটা ধর্মান্ধতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ধর্মান্ধতার কারণে ভারত ও পশ্চিম বাংলার এই মানুষেরা নিজেদের স্বার্থের কথাও ভুলে গেছে। তারা নানানভাবে বাংলাদেশীদের লক্ষ্য করে অশালীন কথাবার্তা বলছে। বাংলাদেশের মানুষের ভারতে চিকিৎসা, ভ্রমন এবং ব্যবসার জন্য যাওয়া বন্ধ করার কথা বলছে।

বাংলাদেশীরা সেখানে যেয়ে ডলার খরচ করে। এতে ভারতের অর্থনীতি পুষ্ট হয়। নিজের লাভ পাগলেও বুঝে, কিন্তু ধর্মান্ধ ভারতীয়রা সেটা বুঝে না।

বাংলাদেশ ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানী করে। নগদ ডলার দিয়ে এই সকল পণ্য আমদানী করা হয়। সারা বিশ্বে রফতানীকারক দেশ আমদানীকারক দেশকে সমীহ করে। আর ভারতীয়রা আমাদের লাঞ্চিত করার চেষ্টা করে। আমাদেরকে লক্ষ্য করে অপমানসুলভ কথা বলে। বাংলাদেশের উচিত বিকল্প বাজার খোঁজা।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর যে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে, সেই বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ভারতের নিকট হতে সমীহ আদায় করে নেবে। সে দিন বেশি দূরে নয়, যখন বাংলাদেশের কোন মানুষ আর ভারতে চিকিৎসার জন্য যাবে না। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত এবং আদর্শ এক রাষ্ট্র।

ভারতের কেও কেও চট্টগ্রাম দখল করে নেওয়ার কথা বলছে। কেও আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা বলছে। এই সব কথা শুনে মনে হয় তারা একটি অন্ধকার সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাথে এ ধরণের আচরণ করার দুঃসাহস দেখালে তার পরিণতি অবশ্যই ভালো হবে না।