রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় মাহিনের দাফন সম্পুন্ন


প্রকাশ :

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) পিকনিকের দোতলা বাস বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত তিনজনের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে সামনের সারিতে ছিলেন মুবতাছিন রহমান মাহিন।রোববার ভোরে মুবতাসিম রহমান মাহিনের লাশ রংপুর নগরীর জুম্মা পাড়ার বাড়িতে পৌঁছায়।বাদ জোহর জুম্মা পাড়া বড়মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মাহিনের সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী সহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এরপর মুনশিপাড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন সম্পুন্ন করা হয়।

এদিকে, রোববার (২৪ নভেম্বর)  মাহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মাহিনের মা-বাবা, স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর শোকের মাতম, সবার চোখে পানি। নগরীর জুম্মা পাড়ার বাড়িতে গতকাল শনিবারও ছেলের অপেক্ষায় ছিলেন মা।কিছু দিনের মধ্যে বাড়ি   আসার কথা ছিল। কথামতো ফিরেছেন মাহিন, তবে নিথর দেহে।

বরিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে মাহিনের মরদেহ এসেছে। স্বজনদের কেউ কেউ তার ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছেন কেউ হাউমাউ করে কাঁদছেন। স্বজনরা শেষ বারের মতো এসেছেন মাহিনকে বিদায় জানাতে।বাড়ির উঠানে যখন মাহিনের নিথর দেহ, তখন মা নাজমুন্নাহারের বিলাপে রংপুরের আকাশও গোমরা মুখো হয়েছে। যেন বেড়েছে বাতাসের ওজন। স্বজনদের শান্তনাতেও চোখের জলে ভিজছে বুক। নিস্তব্ধ হয়েছে নগড়ীর জুম্মাপাড়ায়।দুই ভাইয়ের মধ্যে মাহিন বড়।ছোটবেলা থেকে তুখোর এই মেধাবী মাহিনের এমন অকাল মৃত্যু বাকরুদ্ধ হয়েছেন পরিবার ও স্বজনরা।

মাহিনের এমন মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার মামা কলেজ শিক্ষক জিকরুল ইসলাম বলেন, ‘সন্তানরা কোথায় নিরাপদ? আমরা এমন মৃত্যু চাই না। আমরা এত বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছি যাতে আমাদের সন্তানেরা  নিরাপদ থাকে।কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা দেখবে না এটা শুধু এই দেশে সম্ভব। রাস্তায় মৃত্যু ফাঁদ বিদ্যুতের তার ঝুলে থাকে এটা দেখার কী কর্তৃপক্ষ নেই?

প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান জানান, মাহিনের বাবা ইমতিয়াজুর রহমানও বাকরূদ্ধ। চোখ মুখে ক্ষোভ দুঃখের ছাপ। বাবা হয়ে ছেলের লাশ কাঁধে নিতে হবে এমন অবস্থা দেখতে চাননি ইমতিয়াজ।

মাহিনের বাবা ইমতিয়াজুর রহমান এবি ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক। দু’ ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিলেন মাহিন। আইইউটিতে ক্যারিয়ার অ্যান্ড বিজনেস সোসাইটিতে শেষ বর্ষে পড়ছিলেন মাহিন।

মাহিনের ছোটবেলার বন্ধু তাসিম জানান,রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মাহিন সব সময় সামনে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। আন্দোলন শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষা থাকায় তিনি ঢাকায় চলে যান। তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ সে বাড়িতে এসেছিলেন। যাওয়ার সময় খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরবে বলে জানিয়েছিলেন।

 মাহিনের চাচা হাসানুর রহমান বলেন, ‘রাস্তায় বিদ্যুতের তার ঝুলে আছে পিডিবির কেউ জানে না। এটা কেউ বিশ্বাস করবে? আমরা সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়েছি। তাকে লাশ হয়ে ফিরে আসতে হবে কেন? বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের অবহেলায় প্রাণ ঝরে গেছে।তাদের বিচার করা উচিত।এভাবে ছেলেটা চলে যাবে আমরা মানতে পারছি না। এ শোক সইবার সাধ্য আমাদের নেই। এ ঘটনা শতভাগ অবহেলা। একটা তার ঝুলে পড়বে গায়ের ওপর এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না।এর সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনার বিচার চান। 

প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালি গ্রামে বাসে বিদ্যুতায়িত হয়ে মাহিনসহ আইইউটির তিনজন শিক্ষার্থী মারা যান। এ ঘটনায় আহত হন আরো তিনজন।