রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠাকালীন ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম পুনর্বহাল ও নির্মাণাধীন “শেখ হাসিনা হল” নামের পরিবর্তে ‘বেগম রোকেয়া হল’ দাবিতে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শওকাত আলীর কাছে স্মারক স্মারকলিপি তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক মোঃ আরমান হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে এ স্মারকলিপি দেন তারা। এ সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন সহ উপস্থিত ছিলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মোঃ শামসুর রহমান সুমন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের মোঃ সাকিব ইসলাম, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ১২ তম ব্যাচের মো আহসান হাবিব।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, রংপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল ছিল ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ বর্তমানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যে অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি সেই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর রংপুর অঞ্চলে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজের নাম ফলক ও নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার নামে নাম করণ করেন। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশ ২য় বারের মতো ফ্যাসিবাদীদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করায় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ফ্যাসিবাদীদের দেওয়া নাম পরিবর্তন করে ‘রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ করার জোর দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পুনর্বহাল এবং শেখ হাসিনার নামে হলের নাম পরিবর্তন করে বোগম রোকেয়া হল করার দাবি মানা না হলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে শিক্ষার্থীরা।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ জানান, ‘শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শওকাত আলী জানান, ‘শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি আমি পেয়েছি। তাদের দাবির সাথে আমি একমত। আমি মনে করি এ স্মারকলিপি ২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের একটি বড় অংশ। যত শিগগির সম্ভব যেন এ দাবি পূরণ করা হয়। সেজন্যই আমি সাথে সাথে স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি।’