রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

সুজন-এর উদ্যোগে 'রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন' শীর্ষক গোটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত


প্রকাশ :

নাগরিক সংগঠন সুজন - সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর সহযোগিতায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট উদ্যোগে আজ ১৪ নভেম্বর ২০২৪, সকাল ১০টায়, নসরুল হামিদ মিলনায়তন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সেগুন বাগিচা, ঢাকায় 'রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন' শীর্ষক এক গোটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সুজন-এর সহ-সভাপিত বিচারপতি এম এ মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক সচিব ড. আব্দুল আওয়াল মজুমদার, বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব মাহাবুব কামাল, বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব সোহরাব হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এস এম শফিকুল ইসলাম কানুসহ সুজন-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। 

লিখিত প্রবন্ধে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আগে রাষ্ট্র সংস্কার, না আগে নির্বাচন, এই বিতর্কে না গিয়ে সংস্কার ও নির্বাচন ভাবনাকে কয়েকটি ধাপে ভাবা যেতে পারে। প্রথমত, সংস্কার কমিশনগুলো কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ; দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক অংশীজনদের সাথে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আলোচনাক্রমে সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিতকরণ; তৃতীয়ত, কোন সংস্কারগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করবে এবং কোন সংস্কারগুলো নির্বাচিত সরকার করবে তা নির্ধারণ; চতুর্থত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এখতিয়ারভুক্ত সংস্কারগুলো স¤পন্ন করার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি; পঞ্চমত, নির্বাচিত সরকার কর্তৃক কোন সংস্কারগুলোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি জাতীয় সনদ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর - যাতে যে দল সরকার গঠন করবে তারা যেন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং বিরোধীদলগুলোও যেন তাতে সমর্থন দিতে বাধ্য থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে যেমন সংস্কার প্রয়োজন, নির্বাচনের পরেও তা চলমান রাখতে হবে।  

বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, একটি সফল বিপ্লবের পর আগামী সময়ে রাষ্ট্রের কী মেরামত লাগবে এ ব্যাপারে সুজন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে দেশ পরিচালিত হবে এটাই স্বাভাবিক, এর কোনো ব্যত্যয় হওয়া উচিত নয়। কিন্তু দেশের ন্যূনতম কোনো সংস্কার না করে রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া অনেকে নিরাপদ বোধ করছে না। তাই নির্বাচনে যাওয়ার আগে কিছু জরুরি সংস্কার করা দরকার। 

এস এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, রাজনীতিবিদরা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে, অথচ সাধারণ মানুষ সামান্য চিকিৎসা সেবাও পায় না। দেশের এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে সাধারণ মানুষকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। 

সোহরাব হাসান বলেন, ১৭ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের চিন্তা করতে হবে। এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ৫৩ বছর ধরে রাষ্ট্র এটি করেনি। এতগুলো জীবনের বিনিময়ে এখন বৈষম্যবিরোধী সমাজ পাচ্ছি? গতকাল স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়ে যে ঘটনা ঘটলো এটা কাম্য ছিল না। সরকার আহতদের প্রতি ন্যায় বিচার করেনি। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করেনি। এখনো পর্যন্ত নিহতদের তালিকাও করা হয়নি। ৫ আগস্টের পর সব অবিচার বন্ধ হয়ে যায়নি। অবিচারের প্রতিবাদ এখনো করতে হবে।