রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ধরে কৃষ্ণচুড়া সড়কের ডিভাইডারে রং-তুলি নিয়ে বসেছেন বন্ধু দিগন্ত শর্মা। সড়কের লাইট পোস্টের আলোয় তার রং-তুলি ছোঁয়ায় সাদা কাগজে এঁকে ফুটে তুলছেন নানান মানুষের প্রতিচ্ছবি। এই প্রতিচ্ছবি আঁকা হচ্ছে কার্টুন ফর জিলান নামে। প্রতি প্রতিচ্ছবি ৫০ টাকা থেকে শুরু শতভাগ অর্থ দেয়া হবে ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধু জিলানের কেমোথেরাপিতে। এমন ব্যাতিক্রমি ব্যানার লাগিয়ে চলছে অর্থ
সংগ্রহের অভিনব চেষ্টা।এই প্রতিচ্ছবির বিনিময়ে নেন ৫০ টাকা। কেউ কেউ খুশি হয়ে ৫০ এর অধিক টাকা দিয়ে যাচ্ছেন। বøাড ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধু জিলানকে বাঁচাতে শুক্রবার সন্ধ্যা নামার পর বেগম রোকেয়া বিদ্যালয়ের
সেই কৃষ্ণচুড়া গাছের নিচে রং-তুলি নিয়ে বসেন কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী দিগন্ত শর্মা রাত ১১টা অবধি।বন্ধুর চিকিৎসার জন্য দিগন্ত শর্মা এর এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা জানান, ডোনেশন বক্সে করে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অর্থ সংগ্রহ নয়, নিজের প্রতিভার মাধ্যমে বন্ধুর চিকিৎসায় সহযোগিতা করার চেষ্টার ইতিহাস গড়েছেন বন্ধু দিগন্ত শর্মা।
রংপুরের কারমাইকেল কলেজ দিগন্ত শর্মা জানান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতিয় বর্ষের শিক্ষার্থী।চলতি বছরের জুলাই মাসে বøাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তার আরেক বন্ধু রাজধানীর তেজগাঁও কলেজর ৩য় বর্ষের, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসনাত জিলান। স্বার্থবাদী সমাজে বন্ধুর চিকিৎসায় দিগন্ত উদ্যোগ নজির বিহীন বলছেন সহপাঠিরা। বন্ধুর চিকিৎসার জন্য ছবি এঁকে অর্থ সংগ্রহ বেশ ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, বন্ধুর চিকিৎসার জন্য ছবি এঁকে অর্থ সংগ্রহের অভিনব চেষ্টার পাশে সবারই থাকা উচিত।বন্ধুর জন্য বন্ধুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। গানের অনুষ্ঠানসহ অনেক ভাবে রোগীর টাকা সংগ্রহের কথা বিভিন্ন সময় শোনা যায়। কিন্তু ছবি এঁকে অর্থ সংগ্রহ করার ধারণা নতুন। আশাকরি মানুষ এই অভিনব চেষ্টায় সাড়া দেবে।