গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী ও খাল খননের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় সংগঠনটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মো. আনোয়ার সাদতের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল ও যুগ্ম সম্পাদক ডা. বোরহান অরণ্য সমাবেশ পরিচালনা করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু গেরিলা লিডার’৭১, প্রকৌশলী ড. মো. লুৎফর রহমান, ড. মহসীন আলী মন্ডল প্রিন্স, মিহির বিশ্বাস, মনোয়ার হোসেন রনি, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ, মো. তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ, জীববৈচিত্র্য সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাসিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক হাসিবুল হক পুনম, ঢাকা মহানগর সভাপতি মুহসীনুল করিম লেবু, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি জামান ভূঞা, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল হালিম সরকার, প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেক, সঞ্জয় চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট মো. সালাহউদ্দিন সিকদার, শামীম মোহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম নান্নু ও প্রকৌশলী শাহরিয়ার আজিম সুজন প্রমুখ।
নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে যেসব দাবি তোলা হয়:
গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গা চুক্তি নবায়নের দাবি
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৬ সালে সম্পাদিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। তাই পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। নতুন চুক্তিতে পানি, কৃষি, পরিবেশ, জ্বালানি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার আহ্বান
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা সমঝোতা করার আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁদের মতে, অভিন্ন নদীর পানির সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা দেশের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি
বক্তারা বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকল্প দুটির নকশা এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ, জ্বালানি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যান্য বড় অভিন্ন নদীতেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করার আহ্বান জানান তাঁরা।
নদী দখলদার উচ্ছেদ ও দূষণ বন্ধের দাবি
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বাড়ানো, সুপেয় পানির উৎস সংরক্ষণ এবং খরা মোকাবিলায় সেচ সুবিধা বাড়াতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদ-নদী ও খাল খনন এবং পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে এ কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চিহ্নিত প্রায় ৬০ হাজার নদী দখলদারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নদী দখলমুক্ত করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, নদী দূষণকারী শিল্পকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে বাধ্য করতে হবে।
সমাবেশ থেকে নদী রক্ষায় সরকারের ঘোষিত উদ্যোগগুলোর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন শুষ্ক মৌসুমেই শুরু করার আহ্বান জানানো হয়।