কৃষিতে ফসল উৎপাদনের জন্য যে সমস্ত উপাদান বা উপকরণ অনিবার্য তার মধ্যে শ্রমিকের পরপরই সার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পৃথিবীর আদিকাল থেকে জমিতে ফসল উৎপাদনের জন্য যে সার ব্যবহার করা হতো তার মধ্যে অন্যতম হলো নদীর পলি, (বন্যার পরেই জমিতে মাটির যে আস্তরণ পরে তা), মানুষ ও গবাদিপশুর মলমূত্র, গাছপালার ডালপালা ও ঘাসের পচাগলা মিশ্রিত অংশ ইত্যাদি। যার সংকটের কারণে বর্তমানে কৃষি লাভজনক হচ্ছে না। চাষের জমিতে পলি পরার জন্য প্রচুর বৃষ্টির পানি,নদীর বন্যা,প্রাকৃতিক জলস্রোত, জলাবদ্ধতা,জলচ্ছাস ঘুর্নিঝড়ের বাতাস ইত্যাদি খুবই দরকার। এ সমস্ত উপাদান প্রাকৃতিক উপায়ে জমির প্রয়োজনীয় সার তৈরি করে ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগী করে তুলে। যা এখনো করে যাচ্ছে। তবে মানুষ কর্তৃক খাল খনন অথবা বাঁধ নির্মাণ কিংবা পানি প্রবাহে বিভিন্ন ধরণের বাধা সৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক বন্যা হতে জমিন কোন পলি সংগ্রহ করতে পারছেনা বিধায় প্রাকৃতিক সার যথা পলি,কাদা,কচুরিপানাসহ অন্যান্য ফসলের গলিত অংশ কম পাচ্ছে । অপরদিকে জমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার বৃষ্টিপাতের পানিতে বা বন্যায় ধুয়ে মুছে জমিনকে পরবর্তী ফসল ফলাতে উপযোগী করে দেয় কিন্তু যদি বৃষ্টি ও বন্যা কম হয় তাহলে এ সমস্ত বাড়তি উপাদান পরবর্তীতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কার্যকারিতা হ্রাস করতে থাকে এতে পরবর্তী বছরগুলোতে খরচ বাড়তে থাকে । এছাড়া প্রাকৃতিক সারের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে জমিতে কৃত্রিম সার প্রয়োগ করে ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হচ্ছে। প্রমাণ হিসাবে দেখা যায় যে নদীর চর ও বিল এলাকায় চাষাবাদে এখনো তেমন কোনো বাড়তি সার ব্যবহার করতে হয় না। ফলে সেখানে ফসল উৎপাদনের খরচ কম,অপরদিকে উঁচু জমিতে ফসল ফলানোর খরচ অনেক বেশি কারণ সেখানে চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার প্রয়োজন। যার মুল্য নিচু জমির প্রায় দ্বিগুণ। একথা সত্যি যে বাংলাদেশে চাষাবাদের জন্য উঁচু শ্রেণির জমির পরিমাণ বেশি। ফসলের ভান্ডার উত্তরাঞ্চলের সকল জমিই প্রায় উঁচু শ্রেণির,তাই সেখানে বর্তমানে ফসল উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার দরকার হচ্ছে যা ইতিপুর্বে প্রয়োগ করতে হতো না। রাসায়নিক সারের মুল্য পরিশোধ করে ফসল উৎপাদনের ফলে কৃষকরা লাভবান হতে পারছে না। ওদিকে জৈব সার কৃষির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা অল্প খরচে জমির প্রয়োজনীয় সারের চাহিদা পূরণ করতে পারে। আদি যুগ থেকেই জমিন এ সার প্রাকৃতিক নিয়মেই পেয়ে আসতেছিল। জৈব সারের উৎস হিসাবে প্রধানত গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীর মলমূত্র এমনকি মানুষের মলমূত্র এবং উদ্ভিদের পচনশীল অংশই প্রধান ছিল। পুর্বে যেহেতু বছরে একবার ফসল উৎপাদন হতো আর অবশিষ্ট সময়ে গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী সমুহ সেখানে অবাধে চড়ে বেড়াত এবং ঘাস খেত আর মলমূত্র ত্যাগ করত। এতে জমিন স্বাভাবিক ভাবেই প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব সার পেয়ে যেত। সাথে সাথেই জমিনের ঘাস লতাপাতা পঁচে নিজেই সার তৈরি করে নিত। গবাদি পশু এখন ঘরের ভিতরে বন্দি আর একই জমিতে বছরে দুই তিনবার চাষাবাদ করার কারণে জৈব সার পাওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় রাসায়নিক সার ব্যবহার জরুরি হয়ে পরেছে, আর রাসায়নিক সারের মুল্যের খরচ মেটাতে ফসল উৎপাদন লাভজনক হচ্ছে না। (চলমান)
লেখক মুহাম্মদ ইয়ার আলী
স্বত্বাধিকারী
আলী ফ্রুটস এন্ড ভেজিটেবলস কোল্ড স্টোরেজ,
কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট
রংপুর জেলা কমিটি’র জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত
১ ঘন্টা আগে