২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস কে সামনে রেখে 'নিরাপদ সড়ক চাই রংপুর জেলা কমিটি' মাস ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষ রোপন, রাস্তায় যানজট কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, রাস্তার সাইন সমুহ পরিস্কার, নিসচা প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এর স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন এর রুহের মাগফিরাত কামনা সহ ইলিয়াস কাঞ্চন এর রোগমুক্তি ও সকলের রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ মাহফিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ(গতকাল) ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করে “নিরাপদ সড়ক চাই” রংপুর জেলা শাখা।
অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’। এই কথাটি শুধু দিবসের স্লোগান নয়, এটি দেশের উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং মানুষের জীবন রক্ষার অঙ্গীকার।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন নিহত হন। ব্যক্তিগত শোককে জনস্বার্থের আন্দোলনে রূপ দিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের দাবিতে কাজ শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলন দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, জনসম্পৃক্ততা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে জাতীয় আলোচনায় প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৭ সালে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পায়। এই দিনটি তাই শুধু শোক স্মরণের নয় অগ্রগতি পর্যালোচনা, ঘাটতি শনাক্ত এবং বাস্তব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণেরও দিন।
সংবাদমাধ্যম ও নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ৭,২৯৪ জন থেকে আরও বেশী নিহত হওয়ার হিসাব প্রকাশ করে। ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা ৭,৩৫৯। এগুলো ভিন্ন উৎস ও পদ্ধতিতে সংগৃহীত হিসাব, তাই একটিকে অন্যটির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করে প্রকৃত প্রবণতা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। বরং এই পার্থক্যই দেখায়, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহে সমন্বিত, স্বচ্ছ ও নিয়মিত হালনাগাদ ব্যবস্থা কত জরুরি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নিসচা ২০১২ সাল থেকে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।
তথ্যের ভিত মজবুত করতে একটি জাতীয় দুর্ঘটনা তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। পুলিশ, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য একটি অভিন্ন কাঠামোয় যুক্ত করতে হবে। প্রতিটি দুর্ঘটনার স্থান, সময়, যানবাহনের ধরন, সড়কের অবস্থা, হতাহত, চিকিৎসা এবং তদন্তের ফলাফল নিয়মিত নথিভুক্ত করতে হবে। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরও হিসাবের আওতায় আনতে হবে। তথ্য যেন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না হয় জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যও প্রকাশ করা দরকার। এতে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, ঝুঁকির ধরন বোঝা এবং গৃহীত পদক্ষেপে প্রাণহানি কমেছে কি না তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
নিরাপদ সড়ক চাই রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি হাসান ফেরদৌস রাসেল তার বক্তব্যে বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে সাধারণত একাধিক কারণ কাজ করে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্য এসব ঝুঁকি সুপরিচিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চালকের ক্লান্তি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অনিরাপদ সড়ক নকশা, ফুটপাতের অভাব, রাস্তা পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকা এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসায় বিলম্ব। ফলে প্রতিটি দুর্ঘটনাকে শুধু “চালকের ভুল” বলে শেষ করলে আসল কারণগুলো আড়ালে থেকে যায়। আইনভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়ক, যানবাহন, কর্মপরিবেশ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবার ভূমিকা তদন্ত করতে হবে। আমরা পথে দুর্ঘটনায় শিকার হয়ে বাবা মা ভাই বোন এর মৃত্যু খবর চাইনা আর এই দূর্ঘটনায় মৃত্যুতে সরকারি সর্বোচ্চ অনুদান ৫ লক্ষ টাকাও চাই না, আমরা চাই আমাদের পরিবারের তথা দেশের সকল মানুষ যারা কোন না কোন কাজে সড়কে নেমেছে তারা যেন সুস্থ্য বাড়ী ফিরে আসে।
তিনি আরো জানান, সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসন সহযোগিতা করলে 'নিরাপদ সড়ক চাই রংপুর জেলা কমিটি' মাত্র ২৪ ঘন্টায় রংপুর শহরের যানজট মুক্ত করে দিতে সক্ষম সেটা যত অটো বা রিকশা রাস্তায় থাকুক না কেন।
মানব্বন্ধন ও সভায় বক্তব্য পেশ করেন নিরাপদ সড়ক চাই রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি হাসান ফেরদৌস রাসেল, সহ-সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নুল আবেদীন মিঠু, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আমিরুল ইসলাম রাজু, ক্রিড়া সম্পাদক ইউনুছ কবির মিঠু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফুয়াদ হাসান, সদস্য সাজ্জাদ, লিটন, আসাদ প্রমূখ।
কেন কৃষি লাভজনক হচ্ছে না? (পর্ব-৩)
২৪ মিনিট আগে