বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

প্রবৃদ্ধি কমে ৪ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা এডিবির


প্রকাশ : (১৫ ঘন্টা আগে)
প্রবৃদ্ধি কমে ৪ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা এডিবির

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এর আগে জুলাইয়ে সংস্থাটি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ফ্ল্যাগশিপ প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’-এর সর্বশেষ হালনাগাদ সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক ব্যালান্সশিট এবং ঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন কমে গেছে। এতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যিক প্রতিকূলতা, জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং আবহাওয়াজনিত দুর্যোগও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে এডিবি।

সংস্থাটির মতে, অনিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ, লজিস্টিক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবসায়িক অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের হার ও ব্যবসায়ীদের আস্থার ঘাটতিও বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

খাতভিত্তিক হিসাবে, চলতি অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এডিবি।

কৃষি খাতও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও সারের সীমিত সরবরাহের কারণে চাপে থাকতে পারে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেবা খাতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে এডিবি। চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

এডিবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। এল নিনোর বিলম্বিত প্রভাবও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের স্থানীয় দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে সামগ্রিক মূল্যস্তর আরও বাড়তে পারে।

তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতি এবং দুর্বল ঋণপ্রবাহের কারণে চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে মনে করছে এডিবি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থনীতিতে চাহিদার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি ভোগব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেমিট্যান্স এ ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চাপে থাকবে।

অন্যদিকে উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট ও ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দাভাব অব্যাহত থাকতে পারে। এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারি বিনিয়োগের অবদানও সীমিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ধীরগতিতে পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি। তবে জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির চাহিদা বাড়ায় সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন