রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

মরুভূমিতে মিলল ৪১০ কোটি বছরের পুরোনো মঙ্গল গ্রহের উল্কা


প্রকাশ : (৪ ঘন্টা আগে)
মরুভূমিতে মিলল ৪১০ কোটি বছরের পুরোনো মঙ্গল গ্রহের উল্কা

শিলায় মিলেছে প্রাচীন মঙ্গল গ্রহে পানির অস্তিত্বের প্রমাণ, নতুন তথ্য জানাচ্ছে গ্রহটির আদি ইতিহাস পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির মরুভূমিতে আবিষ্কৃত হয়েছে মঙ্গল গ্রহের প্রায় ৪১০ কোটি বছরের পুরোনো একটি উল্কা। তেঘাজা ০০১ নামের গোলাপি রঙের এ উল্কায় প্রাচীন মঙ্গল গ্রহে পানির অস্তিত্ব এবং ভূত্বকের পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আবিষ্কারটি লাল গ্রহের আদি ইতিহাস ও পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।

২০২২ সালে মালির একটি লবণ সমভূমিতে উল্কাশিকারিরা তেঘাজা ০০১ আবিষ্কার করেন। ওই সমভূমির নাম অনুসারেই উল্কাটির নামকরণ করা হয়েছে। এতে মোট আটটি খণ্ড রয়েছে, যার সম্মিলিত ওজন ৭৯৮ দশমিক ৫ গ্রাম। সবচেয়ে বড় খণ্ডটির ওজন ৪৪২ গ্রাম।

বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল গ্রহে কোনো গ্রহাণু বা ধূমকেতুর আঘাতে শিলাটি মহাকাশে ছিটকে পড়েছিল। পরে কয়েক মিলিয়ন বছর মহাশূন্যে ঘোরার পর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। শেষ পর্যন্ত মালির মরুভূমিতে এসে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির প্ল্যানেটারি সায়েন্টিস্ট ইয়াং লিউ জানান, তেঘাজা ০০১ মঙ্গল গ্রহের অত্যন্ত বিরল ও প্রাচীন একটি উল্কা। এর রাসায়নিক গঠন আগে পাওয়া মঙ্গলীয় উল্কাগুলোর চেয়ে আলাদা। নমুনাটি গবেষকদের গ্রহটির আদি ভূত্বক ও ম্যান্টল স্তর সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দিয়েছে।

উল্কাটির মধ্যে পাওয়া জিরকন নামের খনিজ স্ফটিক বিশ্লেষণ করে এর বয়স নির্ধারণ করেছেন গবেষকেরা। জিরকনকে বিজ্ঞানীরা টাইম ক্যাপসুলের সঙ্গে তুলনা করেন, কারণ এর মাধ্যমে শিলার গঠনের সময় নির্ধারণ করা সম্ভব। বিশ্লেষণে স্ফটিকগুলোর বয়স অন্তত ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন বছর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, মঙ্গল গ্রহের অস্তিত্বের প্রথম ৪০ কোটি বছরের মধ্যেই শিলাটি গঠিত হয়েছিল।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ গেঞ্জ বলেন, মঙ্গল গ্রহ থেকে নতুন কোনো উল্কা পাওয়া সব সময়ই রোমাঞ্চকর। এটি গ্রহটির অন্যতম প্রাচীন উল্কা। এর মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায় সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যখন সেখানে পানির উপস্থিতি ছিল বলে ধারণা করা হয়।

গবেষণায় নমুনাটির বয়স নির্ধারণে লেজারভিত্তিক নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক হেওয়ার্ড মেলটনের তৈরি এ পদ্ধতিতে নমুনার খুব সামান্য অংশ বাষ্পীভূত করে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এ প্রযুক্তিতে নমুনার বয়স নির্ধারণে প্রয়োজনীয় সময় এক মাস থেকে কমিয়ে মাত্র এক দিনে আনা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মূল নমুনার বড় অংশ ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য অক্ষত রাখা যায়।

ম্যাথিউ গেঞ্জের মতে, তেঘাজা ০০১ একটি ব্যাসল্ট শিলা। পৃথিবীর মহাসাগরের তলদেশ এবং আইসল্যান্ড ও হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি থেকে তৈরি পাথরের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন মঙ্গল গ্রহের ভূত্বকে পানির সঙ্গে রাসায়নিক মিথস্ক্রিয়ার প্রমাণ রয়েছে এ শিলায়।

গবেষক হেওয়ার্ড মেলটন বলেন, এ আবিষ্কার পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের পরিবেশগত পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে পৃথিবী কেন শুষ্ক হয়ে যায়নি, অথচ মঙ্গল গ্রহ কীভাবে শুষ্ক হয়ে পড়েছে, তা অনুসন্ধানে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে গ্রহে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়টি বুঝতেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞানীরা এখন ভাইকিং ল্যান্ডার এবং কিউরিওসিটি ও পারসিভিয়ারেন্স রোভারের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের সঙ্গে উল্কাটির উপাত্ত তুলনা করতে চান। প্রাথমিকভাবে মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমির ১৩টি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা, যেখান থেকে তেঘাজা ০০১-এর উৎপত্তি হতে পারে।

সূত্র: প্রথম আলো 

বিজ্ঞাপন