জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দেশের স্বার্থে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রফেসর এমিরিটাস ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।**
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। তাঁর মতে, গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্যে সেদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পটপরিবর্তন ঘটিয়েছিল।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক নিবন্ধে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না; এর তাৎপর্য ছিল আরও গভীরে। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার সম্মিলিত অবস্থানের মধ্য দিয়ে দিনটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করে।
নিবন্ধে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী উল্লেখ করেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীতে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। পরে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সাধারণ সৈনিকদের বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঘটনা সংঘটিত হয় এবং জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
নিবন্ধে জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে লেখক বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানি, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা, জনশক্তি রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে।
নিবন্ধের শেষাংশে তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
**লেখক:** ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, প্রফেসর এমিরিটাস এবং বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত।
৭ নভেম্বর: বাংলাদেশের নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার দিন
১৫ ঘন্টা আগে