সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশ : (১ ঘন্টা আগে)
জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় জ্বালানির দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। এসব কারণে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানির দাম সমন্বয় না করায় বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। মাসে গড়ে এ লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম অপরিবর্তিত রেখে বিপিসির আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার শুরুতে জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিপিসির লোকসানের বোঝা আর বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৭০ টাকা হলেও দাম সমন্বয়ের আগে দেশে তা বিক্রি হচ্ছিল ১১৫ টাকায়। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৫৫ টাকা ঘাটতি বিপিসিকে বহন করতে হচ্ছিল।

সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসিকে প্রায় ১৫ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দাম সমন্বয় না করলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান বা ভর্তুকির প্রয়োজন হতো। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারত।

এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে চাপ তৈরি হতে পারে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মতো খাত রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম ছিল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৩৮ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা।

কম দামে জ্বালানি বিক্রির কারণে সীমান্তপথে পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করা জ্বালানি প্রতিবেশী দেশে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্য শুধু বিপিসির আর্থিক লোকসান কমানো নয়, জ্বালানি পাচারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানোও। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা ও জরুরি জনসেবায় সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর পেছনে সরকারের বিবেচিত পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন