মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনব: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশ : (১১ ঘন্টা আগে)
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনব:  গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং প্রতিটি শিশুর সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।

সোমবার (৩১শে আগস্ট) সকালে দিনাজপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত  ‘'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি' শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এলক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি আরও বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য শুধু খাবার বিতরণের সংখ্যায় নয় বরং এর মাধ্যমে কতজন শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, ঝরে পড়ার হার কতটা কমছে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও শেখার আগ্রহ কতটা বাড়ছে, তার ওপরই এ কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে। এ কারণে কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে বাস্তব ফলাফল যাচাই ও নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা ভুল খুঁজে কাউকে দোষারোপ করার জন্য কাজ করছি না। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়,সেটি চিহ্নিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচির দুর্বলতা দূর করে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসবে, বিদ্যালয়ে থাকবে এবং শিখবে,এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো নয়, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে শিখছে কি না, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, শিশুবান্ধব ও ফলাফলভিত্তিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা। এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার প্রায় ৪৫০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন