সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

জ্বালানি সংকটে বাড়ছে শিল্পের ব্যয়, প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে


প্রকাশ : (১ ঘন্টা আগে)
জ্বালানি সংকটে বাড়ছে শিল্পের ব্যয়, প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে

বিশ্ববাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতায় সংকটে পড়েছে শিল্প খাত। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় কারখানাগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের চূড়ান্ত দামে।

দেশের তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন শিল্পে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করছে।

হঠাৎ ভোল্টেজ কমে যাওয়া বা লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংবেদনশীল টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক কারখানা তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

অন্যদিকে উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, কারখানা ভাড়া, ব্যাংক ঋণের কিস্তিসহ নির্দিষ্ট ব্যয় অপরিবর্তিত থাকছে। ফলে প্রতি ইউনিট পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে দেশীয় বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, চলমান গ্যাস সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ সময়মতো শিপমেন্ট করতে পারছে না।

তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের রপ্তানি আদেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিকেএমইএ। পাশাপাশি বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা এবং গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বা পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের দাবিও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য খাতে সিএনজির পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং গ্যাস সংকটের কারণে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তত ছয় মাস খেলাপি হিসেবে বিবেচনা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শিল্প খাতে ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন