সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

তিন ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল, বাড়বে বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা


প্রকাশ :

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল একবারে নয়, বরং তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। এর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও বাড়তি আর্থিক সুবিধার আওতায় আসবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণের চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরের বাজেটেও অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান রাখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা হবে, যা কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি বেতন সমন্বয় করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা। এ জন্য বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪ হলেও তা কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হতে পারে। একই সঙ্গে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা শুধু কর্মরত চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে স্বল্প পেনশনপ্রাপ্ত প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা ও নতুন বেতন কাঠামোর সমন্বয় বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।