শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৬ দফা দাবী জানিয়ে রংপুরে সংহতি সভা


প্রকাশ :

নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৬ দফা দাবী জানিয়ে রংপুরে সংহতি সভা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে সভায় রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবি, সাংবাদিক, ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্টান্ডিং কমিটির সদস্য  বীরমুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু  (গেরিলা লিডার’৭১), আব্দুর রউফ দুলাল, মোহাম্মদ আলী, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান,  কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সাইফ, রংপুর মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, বাংলার চোখের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী, এনসিপি নেতা আলমগীর কবির, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জুসহ অন্যরা।  

সভায় বক্তারা বলেন, উত্তরের দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি প্রাণ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। দীর্ঘ এক যুগ ধরে ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবীতে আন্দোলন করে চলেছে। দাবীর প্রেক্ষিতে ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে চীন রাষ্ট্রদূত রংপুরে এসে জানিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোন বাধা নেই। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারী থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান নির্বাচিত সরকার প্রধান নির্বাচনের আগে রংপুরে জনসভায় বলেছিলেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু বিপুল পরিমান অর্থ দ্বারা নির্মিতব্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে পাস হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতি বছর বন্যা-ভাঙ্গনে হাজার হাজার মানুষ ভিটে-মাটিসহ জীবিকার পথ হারাচ্ছে। আবার শুস্ক মৌসুমে পানি না পেয়ে ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। যার প্রভাব পড়ছে উত্তরের প্রাণ-প্রকৃতিতে।

এ সময় তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করলে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃত্বে পুরো জুন মাসব্যাপী তিস্তা পাড়ের ৫ জেলার ১২ উপজেলায় উঠান বৈঠক, হাটসভা, পথসভা, লিফলেট বিতরণ ও গণসমাবেশ করা হবে। পহেলা জুলাই থেকে তিস্তাপাড়ের ৫ জেলা একযোগে মশাল প্রজ্জ্বলন ও গণঅবস্থান কর্মসূচী পালন করা হবে।

এছাড়া সংহতি সভায় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ, একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা, প্রকল্পে কাজ তদারকির জন্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনে যুক্ত প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’গঠন, তিস্তা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারীভাবে সঞ্চয়পত্রের মতো তিস্তা বন্ড চালু এবং তিস্তার বালু ও পাথর উত্তোলনে সরকারী ব্যবস্থাপনা, তিস্তা বন্ড ও বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্প কাজে বিনিয়োগ এবং প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্থদের পুনবার্সন, কৃষক সময়বায় ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উপর ৬ দফা দাবী জানায় তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।