সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

এস আলমের সহযোগীদের গ্রেফতার ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ


প্রকাশ :

“ব্যাংক ডাকাত” হিসেবে অভিযুক্ত এস আলমের সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, এস আলম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট ও পাচারের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তার পাচারকৃত প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা দ্রুত উদ্ধার এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।


সমাবেশে সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রতারণার মাধ্যমে হাসিনা আক্তার চৌধুরীর কাছ থেকে ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এভিপি মাহফুজ আলম, ম্যানেজার এম এ মোতালেব, মোস্তফা কামাল ও ফারুক আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা এখনও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে পলাতক এস আলম গ্রুপ, সামিট গ্রুপ ও অন্যান্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে কারা পরিচালনা করছে, তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, শহীদ আসাদের সহোদর ডা. নুরুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা লিডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু, পারভীন নাসের খান ভাসানী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মঈনুদ্দীন, কবি কাজী আলম, আফাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যে সাধারণ আমানতকারীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ জব্দের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বক্তারা তথাকথিত “নতুন কালো আইন”-এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।