রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

শিশু ধর্ষণ বেড়েই চলেছে, সাড়ে চার মাসে নির্যাতনের শিকার ১১৮ শিশু


প্রকাশ :

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা। একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে সারা দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭ শিশুকে। শুধু গত দুই সপ্তাহেই ধর্ষণের পর চার শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর জবাবদিহি ছাড়া শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমানো সম্ভব নয়। তাদের মতে, শিশু সুরক্ষা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমাজের মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় পৃথক কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি অপরাধীদের শুধু আইনের আওতায় আনাই নয়, সামাজিকভাবেও চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতিতেও শিশুদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন বিকাশের অঙ্গীকার রয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু। প্রতিটি ঘটনাই একটি পরিবারের জন্য অসহনীয় ট্র্যাজেডি এবং সমাজে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, বিদেশে এ ধরনের অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু দেশে সেই সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ফলে শিশুরা অনিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে। তিনি বলেন, সমাজে অপরাধকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর ও স্বতন্ত্র “চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশন” গঠন জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রমে শিশু সুরক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও জাতীয় নির্বাচনের আগে ইউনিসেফের শিশু অধিকার ইশতেহারে দেশের ১২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল, তবে বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।