পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় রায় ঘোষণা করেছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ৫ বছর, শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা দেখা যায়। আদালতের প্রধান ফটকগুলোতে পুলিশ ও বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। এজলাসের সামনের বারান্দায়ও বাড়তি পুলিশ অবস্থান নেয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত ব্যবস্থার পাশাপাশি সন্দেহজনদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
মামলার সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান বলেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য–প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত আদালতের। আমাদের আশা ছিল সর্বোচ্চ শাস্তি।
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে শেখ রেহানাসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তী তদন্তে আরও দুইজনকে যুক্ত করা হলে মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭–তে।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এ বছরের ৩১ জুলাই বিশেষ জজ আদালত–৪ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
আপনি চাইলে আমি এই রিপোর্টটি আরও বিস্তৃত করতে পারি, সংক্ষিপ্ত করতে পারি, অথবা আপনার পত্রিকার স্টাইল অনুযায়ী টোন বদলে দিতে পারি।