ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছান। ড্রুকএয়ারের ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তাকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে ভিআইপি লাউঞ্জে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথা হয়।
বৈঠকে তোবগে শুক্রবারের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ব্যাপারে খোঁজ নেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে ১৯ বন্দুক স্যালুট ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
বিমানবন্দর ত্যাগ করে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর স্মারক বইতে স্বাক্ষর করবেন।
দুপুরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্ত আলোচনা নির্ধারিত আছে। রাতে তিনি সরকারি নৈশভোজে যোগ দেবেন।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, পর্যটনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ ভুটানকে কিছু সুনির্দিষ্ট সহযোগিতা প্রস্তাব দিতে পারে—যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সমর্থন, পেশাদারদের নিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সমন্বয়।
বৈঠক শেষে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে—ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা বিষয়ে। আগামীকাল তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে।