রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

শ্যামা সুন্দরী খালের পানির প্রবাহ বাড়াতে ১০ কিলোমিটার ড্রেজিং এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: রংপুরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান


প্রকাশ :

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রংপুরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত শ্যামা সুন্দরী খালের পানির প্রবাহ বাড়াতে ১০ কিলোমিটার ড্রেজিং এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ৬৮ টি পয়েন্ট দিয়ে এই খালে বজ্য প্রবেশ করে সেই পয়েন্ট গুলোতে ছাকনি তৈরী করার মাধ্যমে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। 

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রংপুর নগরীর অক্সিজেন খ্যাত শ্যামা সুন্দরী খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শ্যামা সুন্দরী খাল দুইবার পরিদর্শন করা হলো। শ্যামা সুন্দরী খালের দুটি প্রতিবন্ধকতা বা বাঁধা রয়েছে। সেই দুটি বাঁধা কেন তৈরী করা হয়েছে, সেটার যৌক্তিকতা খোঁজা হবে। এজন্য সেনাবাহিনীর সাথে কথা বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনী মিলে বাঁধা মুক্ত করে শুস্ক মৌসুমে কাজ শুরু করা হবে। সেই সাথে শ্যামা সুন্দরী খালে ৬৮ টি পয়েন্ট দিয়ে যে বজ্য প্রবেশ করে, সেই বজ্যগুলো কোথাও না কোথাও তো নিতে হবে। এই বজ্যগুলো পরিশোধনের জন্য অল্প খরচে করা যায় কি না সেটা দেখা হবে।  

 পরিবেশ বন ও জলবায়ুু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা তিস্তা নদী বিষয়ে বলেন, এর আগে তিস্তা নদী নিয়ে তিস্তা পারের মানুষের কথা বলে, ৪৫ কিলোমিটার বেশি ভাঙ্গন নিয়ে কাজ শুরু করার ছিলো। সেই অনুযায়ী মাত্র দুই মাসে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় করে কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাজ হয়েছে। বাকী কাজটুকু শুস্ক মৌসুমে করা হবে। এবারে এসে তিস্তা নদী পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের মুখে হাসি দেখেছি। এবারে কারো জমি ভাঙেনি। তিনি বলেন, সবার প্রত্যাশা বা দাবী হচ্ছে পার্মানেন্ট বাঁধ তৈরী করা।কিন্তু পার্মানেন্ট বাঁধ তৈরী করার মতো রিসোর্স পার্সন আমাদের নেই। রংপুরের দাবী পার্মানেন্ট বাঁধ, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, ফেনিরও দাবী। কিন্তু এতো স্বল্প সময়ে যেটা করা সম্ভব নয়। গোটা উত্তরাঞ্চল কিংবা একটা অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময় আমাদের নেই। ৫ বছর মেয়াদী সরকারের জন্য এটা ঠিক আছে। কেননা আমাদের ইচ্ছে থাকলেও সময় নেই। আমরা রংপুরে একটি হাসপাতাল ও তিস্তা নদী নিয়ে কাজ করছি। রংপুরের প্রাণে দাবী তিস্তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভাটির দেশ হিসেবে অধিকার আদায়ে কাজ করছি। যতদিন না পর্যন্ত কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে ততদিন যাতে এই ভাটির দেশে সমস্যা না হয় এজন্য কাজ করে যাচ্ছি। যাতে বার বার বন্যা ও নদী ভাঙন, বারবার সেচের পানি না থাকা নিয়ে চিন সরকারের কাছে কথা হয়েছে।আলমারিতে থাকা তিস্তা নদী নিয়ে পরিকল্পনা বের করে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে চিনা প্রতিনিধি ৫ টি স্থান পরিদর্শন করেছেন। অনেকদিন ঝুলে থাকা সেই পরিকল্পনা সংশোধন করে চীনা কমিশনে পাঠিয়েছি। ওনারা এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের পাঠানোর কথা রয়েছে। ওনারা পাঠালে সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলে চীনা সরকার ডিজাইন করে দিলে আমরা পরিকল্পনাটা চুড়ান্ত করতে পারবো। এর আগে পরিবেশ বন ও জলবায়ুু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও কাউনিয়া তিস্তা নদী পরিদর্শন করেন ।