রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

লালমনিরহাটসহ রংপুর বিভাগে এক মাসে ১৩ টি শকুন উদ্ধার


প্রকাশ :

রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩টি হিমালয় গৃধিনী শকুন গত ডিসেম্বর মাসে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ২টি, কুড়িগ্রামে ২টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ২টি ও লালমনিরহাট থেকে ৩টি বিশালাকৃতির শকুন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আরো উদ্ধার হয়েছে একটি ঈগল ও লক্ষী পেঁচা।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সামাজিক বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ।

সামাজিক বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ জানায়, প্রতি বছর শীতে হিমালয় বরফে আচ্ছাদিত হওয়ায় খাবারের খোঁজে সাড়ে ৬০০ কিলোমিটার উড়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আসে হিমালয়ের গৃধিনী শকুন। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে একপর্যায়ে ক্লানত ও অসুস্থ হয়ে পড়ে বিশালদেহী এসব পাখি। তখন এসব অসুস্থ পরিযায়ী পাখিদের উদ্ধার করে পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধা ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের হরিপুর ও সদর উপজেলার বানিয়াজান এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির দুটি হিমালয় গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়। একই দিনে দুপুরে রংপুর সদর উপজেলার বানিয়াজান এলাকা থেকে আরেকটি হিমালয় গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়।২৮ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার গংগারহাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খেতের আইলে হিমালয় গৃধিনী শকুন পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দারা শকুনটিকে দেখে উদ্ধার করে ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যদের খবর দেন। তারা শকুনটিকে উদ্ধার করে রংপুরে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দিনাজপুরের সিংগাড় ফরেস্টে পাঠিয়ে দেন।

ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের অর্থ সম্পাদক লিজেন আহমেদ প্রান্ত বলেন,উদ্ধার হওয়া বিশালদেহী একেকটি শকুন লম্বায় প্রায় সাড়ে ৭-৯ ফুট এবং ওজন প্রায় ১০-১২ কেজি। প্রতি শীতে প্রায় ১০০টি পাখি বাংলাদেশের সীমানায় দেখা যায়। ২০১৪ সাল থেকে হিমালয় গৃধিনী নিয়ে সরকারের বন অধিদপ্তর আর বেসরকারি সংস্থা আইইউসিএন কাজ করছে।

রংপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন সাফি বলেন, প্রতি বছর শীতের সময় গৃধিনী শকুন উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। শীত শেষ হলে আবার হিমালয়ে ফিরে যায়। গত এক মাসে ১৩টি হিমালয় গৃধিনী শকুন, একটি ঈগল ও একটি লক্ষী পেঁচা উদ্ধার হয়েছে। ঈগল পাখিটির পরিচর্যা শেষে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে।