কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দুধখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন যুগপূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী ও প্রধান শিক্ষক মো: সাহেদুল ইসলামের অবসরোত্তর রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়ের তিন যুগপুর্তি ও প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল তিন ঘটিকায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মাঠ মিলন মেলায় পরিনত হয়।
সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো: সাহেদুল ইসলাম'কে সম্মাননা স্মারক ও একটি পালসার মটরসাইকেলসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী প্রদান করেছে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীগণ।
তিন যুগ পুর্তি ও প্রধান শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও আয়োজক কমিটির মোস্তাফিজার রহমান মন্ডল সাথী বলেন,অবসরপ্রাপ্ত প্রধান টোটাল ৩৬ বছর ৯মাস ৮দিন এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।ওনার নিরলস প্রচেষ্টায় এবং দক্ষ নেতৃত্বে রাজারহাট উপজেলায় বিদ্যালয়টি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু পালাক্রমে অনেক কৃতি শিক্ষার্থী সাধারণ ও ট্যালেন্ট বৃত্তি পায়।প্রধান শিক্ষকের বিদায় আমাদের মধ্যে শোকের মাত্রা বহন করতেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কান্নার রোল পড়তেছে। দক্ষ সৎ এবং সুদক্ষ শিক্ষক হিসেবে উনি রাজারহাট উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে ভূষিত হয়।ওনার অবসরে আমরা শোকাহত, আমরা অত্যান্ত ভারাক্রান্ত মনে স্যারকে বিদায় জানাচ্ছি। তিনি যেনো অবসরোত্তর জীবনে সুস্থ সুন্দর ও দীর্ঘজীবি হন এবং বাকি জীবন অনাবিল আনন্দে কাটাতে পারে আমরা এই প্রার্থনা করি।
দুধখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: সাহেদুল ইসলাম বলেন,বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ সালে আরডিআরএসের শিক্ষা নিলয় নামে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে।পরবর্তীতে রেজিষ্ট্রেশন করাতে আমরা নতুন করে নিয়োগ পাই।আমি ২৬ শে জানুয়ারি ১৯৯০তে নিয়োগ পাই এবং ২৭ জানুয়ারিতে যোগদান করি।বিদ্যালয়টির রেজিষ্ট্রেশন ১৯৯৫ সালে।তারপর থেকে পাঠদান কার্যক্রম চালায় আসতেছি এবং ২০১৩সালের পহেলা জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি সরকারি হয়।আমার বিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পেয়ে আসতেছে।আমার কাছে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিদ্যালয়ের জমিদাতা রহমতুল্লাহ আমাদের মধ্যে বেঁচে নেই,আমি আবদার রাখবো সবাই যেনো জমিদাতার জন্য দোয়া করে এবং আল্লাহ পাক যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করে।দুধখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র সেকেন্দার আলী লিমন বলেন আমাদের স্যার একজন আদর্শবান শিক্ষক, তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন,এই বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবনের শুরু।
স্যারের নিরলস প্রচেষ্টা,পরিশ্রম, ত্যাগ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত আসে।
বিদ্যালয়ের তিন যুগপুর্তি উদযাপন ও অবসরোত্তর বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক আহাম্মদ আলী মন্ডলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃদয় কৃঞ্চ বর্মন।সাবেক ছাত্র আবুল কালাম আজাদ ও ফারুক হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান,দুধখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ডাক্তার মো: আব্দুস ছালাম প্রমুখ।এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তবর্গ।