রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ শিক্ষা

বেরোবিতে নিষিদ্ধের পরও রাজনৈতিক দলের সক্রিয়তা


প্রকাশ :

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১‘শ ৮তম সিন্ডিকেট সভায় সকল ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও সক্রিয়ভাবেই নিজেদের কর্মকান্ডে ফিরছে  রাজনৈতিক দলগুলো। ইতমধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কমিটি ঘোষনা করেছে।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।এখানে কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একের পর এক কমিটি গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাম্য নয়।

এদিকে গত ২৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ ইয়ামিনকে সভাপতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দিয়েছে।

অপরদিকে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এক জরুরি সদস্য সমাবেশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের ২০২৫ সেশনের বাকি সময়ের জন্য ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ সুমন সরকারকে সভাপতি এবং একই শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং ছাত্র সংসদ চালু করা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সেদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়ে পরিচালিত হয়ে আসার কথা ছিল কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে দলীয় কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে অফিশিয়ালি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে?কার প্ররোচনায় কমিটি দেয় সেটা আমার বোধগম্য হয় না।সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রতি এই অবমাননাকে প্রত্যাখ্যান করে। এখন প্রশাসনের উপরে এ বিষয়টা। প্রশাসন যদি এবার শক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, ‘ছাত্রশিবির যখন কমিটি প্রকাশ করেছিল আমরা তাদের ডেকেছিলাম।তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মর্মে অঙ্গীকার করে বলেছে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনীতি করবে না। দেখলাম ছাত্রদল তাদের কমিটি করেছে কমিটিগুলো তো এখান থেকে করা হয় না।যেহেতু কমিটি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তকে সম্মান রেখে সেভাবেই কার্যক্রম চালাবে বলে আশা করি।