রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ শিক্ষা

দশম গ্রেড ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে মানববন্ধন


প্রকাশ :

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ তাদের ১০ম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড় গোল চত্বরে একটি বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য দূর করতে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে যে গ্রেড বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের পরিধি বিবেচনায় দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করার দাবি তাদের।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরিতে সহকারী শিক্ষকরাই মূল ভূমিকা পালন করছেন, অথচ আমরা অবহেলিত। মানববন্ধনে শিক্ষকদের কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা।

শিক্ষকরা আরও বলেন, তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ঢাকায় শিক্ষকদের ওপর যেভাবে লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন এবং লজ্জাজনক।

লালমনিরহাটের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল জলিল তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “জাতি গড়ার কারিগরদের ওপর এমন বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নির্মাতা। আমাদের সম্মান রক্ষা করতে যারা ব্যর্থ, তাদের বিচার চাই।”

তিন দফা সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে মানববন্ধন থেকে লালমনিরহাট জেলার আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহিদুল হাসান, সমন্বয়ক শামসুজ্জামান লিজু ও অন্যান্য শিক্ষক সরকারের প্রতি দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, দশম গ্রেড অবিলম্বে বাস্তবায়ন ও সহকারী শিক্ষকদের জন্য ঘোষণা করা হোক, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক এবং পুলিশি হামলায় আহত সকল শিক্ষকের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক, হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং শিক্ষকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

শিক্ষক নেতারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার যদি অবিলম্বে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে না নেয় এবং হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত না করে, তবে আগামীতে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি, যেমন- কর্মবিরতি বা বিদ্যালয় বর্জন করতে বাধ্য হব।”