লালমনিরহাটে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৫ উপলক্ষে শিক্ষক সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে জেলার পাঁচ উপজেলার শিক্ষকবৃন্দের অংশগ্রহণে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের (নতুন ভবন) মিলনায়তনে এ সম্মিলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (এনডিসি) মো. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ. এম. রকিব হায়দার, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. রাজীব আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রাসেল মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জি. আর. সারোয়ার, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবু সালেহ মো. মুছা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষক কেবল শিক্ষক নন, তিনি একজন সামাজিক নির্মাতা। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের উপলব্ধি করে, তাই শিক্ষকরা সমাজ পরিবর্তনের মূল কারিগর। একজন শিক্ষকের হাত ধরেই একজন ভালো মানুষ গড়ে ওঠে। শিক্ষকরা যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সমাজকে আলোর পথে পরিচালিত করেন।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের আশাবাদী করে তুলতে হবে, শিক্ষা ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য দূরে যেতে হবে না—ধানক্ষেত, কামারের কর্মস্থল বা স্থানীয় কোনো ক্ষেত্রেই নিয়ে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া যায়। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করতে হবে।”
এসময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান আবেগঘন কণ্ঠে তার কর্মজীবনের বিদায় ঘোষণা করেন। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উপস্থিত শিক্ষকরা তার সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং তাকে অবসরজনিত বিদায়ী ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষকদের অধিকার, কর্তব্য, সামাজিক মর্যাদা, বেতন কাঠামো, পেশাগত স্বাধীনতা, কর্মপরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষকদের সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্যের কথাও তুলে ধরেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম থেকে শুরু হয়ে মিশন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে পাঁচজন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।