রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ঢাকা অফিস স্থাপন, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানকে 'নাটক' অ্যাখ্যা, সমকামীতা ও ট্রান্সজেন্ডারদের স্বীকৃতি এবং পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বৈধতা প্রদানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলটি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ফটকে এসে শেষ হয়। সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ জাহিদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ১২তম ব্যাচ।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও লাতিফুর কবির মাহি উভয়ই, ১২তম ব্যাচ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াহাত কবির অমিয় ও আরাফাত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, ধর্মীয় ও মূল্যবোধ সম্পন্ন রাষ্ট্র। এখানে জাতিসংঘের অফিস স্থাপন করে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। এটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানের শহীদদের সাথে বেইমানি। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এসব পশ্চিমা এজেন্ডা প্রতিহত করতে হবে।”
নেতারা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “পতিতাবৃত্তিকে ‘সংহতি’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রদান করে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যা ইসলাম ও দেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী।”
বিক্ষোভে পরবর্তীতে তারা ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেন-জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল,সমকামীতা, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ও লিঙ্গ পরিবর্তন নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন,জঙ্গি নাটক ও ভিত্তিহীন মামলা বন্ধ,পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়ার সকল প্রচেষ্টা বন্ধ ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিরোধী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থা।
সমাবেশ শেষে নেতারা সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন,এই সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের অফিস বন্ধ না হলে, ছাত্র-জনতাকে নিয়ে মাঠে নেমে তা প্রতিহত করা হবে।