রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ রাজনীতি

ডাকসু নির্বাচনে আ.লীগ-শিবির আঁতাতের অভিযোগ মির্জা আব্বাসের


প্রকাশ :

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেই বিজয়ী হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তাঁর দাবি, ছাত্রলীগের ভোট জামায়াতকে দিয়ে বিএনপিকে হারানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “ডাকসু নির্বাচন হয়েছে গতকাল। বিএনপি হেরেছে এটা আপনারা বলতে পারেন, আমি বলব না। আমি শুধু বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের এত ভোট কোথা থেকে এলো? আসলেই তলে তলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ছাত্রলীগ তাদের সব ভোট জামায়াতকে দিয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। কারণ এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের জানমাল কেবল বিএনপির হাতেই নিরাপদ।”

জামায়াতে ইসলামকে ‘মোনাফেকের দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো এবারও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। ওই সময় যেমন ভোট কারচুপি হয়েছিল, এবারও তাই হলো। এর পেছনে জামায়াত-আওয়ামী লীগের আঁতাত কাজ করেছে।”

যদিও ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “যেভাবেই হোক, ওরা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। আমি এই কমিটিকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করি তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং ভুল পথে পরিচালিত হবে না।”

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কারাজীবনের অভিজ্ঞতা টেনে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমি বহু বছর জেল খেটেছি। একই জেলে আমার সঙ্গে ছিলেন জামায়াত নেতা নিজামী, মুজাহিদ ও ডা. তাহের। আমি একদিন নিজামীকে প্রশ্ন করেছিলাম—কেন নির্বাচনে গিয়েছিলেন? তিনি উত্তর দেননি। কিন্তু মুজাহিদ বলেছিলেন, ‘আপনি বুঝবেন না কেন গেছি’। সেই নির্বাচনই শেষ পর্যন্ত তাদের ফাঁসির দিকে নিয়ে যায়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ এখনও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছে। এমনকি বিদেশ থেকে নির্দেশনা দিয়েও জামায়াতকে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার। বক্তব্য রাখেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান তূর্য।