জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে জাতির উদ্দেশ্যে এক নতুন দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র জনগণকে গুম করছে এবং সব শক্তি দিয়ে সেই ঘটনা ঢাকার চেষ্টা করছে।” সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিশেষভাবে স্থায়ী “গুম কমিশন” গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তাসনিম জারা বলেন, গুম হওয়া পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার সঙ্গেই বসবাস করছে। “অভ্যুত্থানের পরও রাষ্ট্র বা প্রশাসন তাদের সন্ধানে ব্যর্থ—এটা একটি বড় ব্যর্থতা,” মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া তিনি দাবি করেন, গুমের তথ্য মুছে দেওয়া বা আড়াল করার চেষ্টা করছে—এ বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। এজন্য প্রণীত কমিশনকে উপযুক্ত তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার, স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার ক্ষমতা থাকা জরুরি।
এনসিপি গঠন করা হয়েছিল মূলত “গুম, খুন, দুর্নীতি ও অনিয়মের” প্রতিবাদে । সেই ধারাবাহিকতায় তাসনিম জারা বলেন, “আমরা আর সেই গুম-খুনের ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না”—এমন তথা রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ।
রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থায়ী গুম কমিশন গঠন শুধু একটি রাজনৈতিক দাবিই নয়—এটি একটি সমাজমুখী মূল্যবোধ ও আইনি সংস্কারের প্রতিফলন। রাষ্ট্রের গোপন তথ্য উন্মোচিত হলে নির্যাতন ও গুম প্রতিরোধে সেটি এক শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়, ২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার ‘গুম’ সংক্রান্ত একটি কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস গঠন করে, যার চেয়ারম্যান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট জাজ মোয়ীনুল ইসলাম চৌধুরী; অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক ও বিচারবিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বরা । তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গত ১৬ জুন ২০২৫ তারিখে তার ম্যান্ডেট বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে কারণ কমিশন এখনও অনেক অভিযোগ ও অনুসন্ধানে অসম্পূর্ণ রয়েছে ।