জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সংবিধান করতে হবে। এ কারণে আমরা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছি সামনের নির্বাচন গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যৌক্তিক কারণ নেই। গণপরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদ সদস্যের কাজ এক সাথে যৌথ ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ)সন্ধায় রংপুর জিলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে ফ্যাসিবাদী বিরোধীরা জনীতিবীদ, ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, পেশাজীবি, অ্যাক্টিভিস্ট, ওলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, যে সংবিধান দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, সেটি মানুষের আকাঙ্খা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংবিধানের এক তৃতীয়াংশকে পরবর্তীতে কোন সংসদ সংশোধন করতে পারবেনা এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ সংবিধানে রাষ্ট্রের তিনটি অর্গানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে এমন ভাবে ক্ষমতায়িত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন প্রধানমন্ত্রী এ দেশে স্বৈরাচারী হয়ে উঠার সুযোগ পায়। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সংবিধানের বাস্তবতা রয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে দেশের শাসন কাঠামো, বিচার কাঠামো, পুলিশ প্রশাসন প্রত্যেক জায়গায় আমূল সংস্কার দরকার। সরকারের তরফ থেকে সংস্কার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা সংহতি ব্যক্ত করেছি। দেশের গণহত্যার বিচার সবচেয়ে কাঙ্খিত বিষয়। গণহত্যার বিচার না হলে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী শক্তি ভবিষ্যতে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে দেশে আরেকবার গণহত্যা, খুন-খাবারী, রাহাজানীর সুযোগ পেয়ে যাবে। দেশকে নিরাপদ করতে হলে চব্বিশের আন্দোলনে গণহত্যাকারী আওয়ামীলীগ ও তাদের দোসরদের ব্যক্তি ও দল হিসেবে বিচার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক পার্টি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তোর বার্তা নিয়ে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে যাচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্পকে স্বনির্ভর করতে হবে। প্রত্যেক সেক্টরকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হলে দেশের মানুষের মুক্তির অর্জন সম্ভব। দেশে কাঠামো উন্নয়ন নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোর জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে, জনগণের সেবায় তারা সচেষ্ট থাকবে এমন দেশ বির্নিমান করা হবে।
এ সময় রংপুর জেলা ও মহানগর সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শওকত আলী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু, মহানগর সদস্য সচিব মাহফুজুর নবী ডন, মহানগর জামাতের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলী, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক,ও রংপুর বিভাগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, আসাদুল্লাহ আল গালিব, সাকিব মাহদী, সদস্য আব্দুল মুনাইম, রফিকুল ইসলাম কনকপ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।