রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ রাজনীতি

তিস্তা মহাপরিকল্পনার নামে আওয়ামীলীগ নাটক করেছে - আসাদুল হাবিব দুলু


প্রকাশ :

কেন্দ্রীয় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন,তিস্তা মহাপরিকল্পনার নামে আওয়ামীলীগ নাটক করেছে। আমরা এই তিস্তার মহাপরিকল্পনা নিয়ে অনেকদিন থেকে শুনে এসেছি যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু মুখে বলেছে বাস্তবে সেটা করে নাই। বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলার তিস্তার অববাহিকায় বসবাসকারীরা আশান্বিত হয়েছিল যে তিস্তা পারের লোকদের এতদিনের দুঃখ কষ্ট মুছে যাবে।


 বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে বানভাসি ও ভাঙন কবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


তিনি আরও বলেন, আমি মন্ত্রী থাকাকালে এই তিস্তার পারের লোকদের ভাঙ্গন রোধে স্পার বাধঁ তৈরি করে দিয়েছিলাম আপনারা সেটা নিশ্চয় জানেন। তারপর আওয়ামীলীগ সরকার দির্ঘ ১৫ বছর শাষনামলে কি করেছে সে সম্পর্কে বলার কিছুই নেই। এখনও নদী ভাঙ্গছে, মানুষের ঘর-বাড়ী তছনছ হচ্ছে, মানুষ ভূমীহীন হচ্ছে। তারা শুধু টেন্ডারের নামে লুটপাট করেছে। কোন কাজ করে নাই। আমি দাবী করি তিস্তার ধারাবাহিকতায় তিস্তা মহিপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হউক। এখানে ভারত সরকার কারনে আওয়ামীলীগ সরকার সেই পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। ভারত বলেছে তিস্তা মহিপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চিন সরকার বিনিয়োগ করবে। এ কারনে ভারত সেটা বিরোধীতা করে। 

দুলু বলেন,আমরা বলতে চাই শুধু চীন কেন পৃথিবীর যেকোন দেশ অর্থনৈতিক সংংস্থা দাতা গোষ্ঠী যারা এই তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে টাকা দিতে চাবে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমরা এ বাস্তবায়নে কাজ সম্পন্ন করতে চাই।আগামিতে তিস্তা মহা পরিকল্পনা আন্দোলনে আমরা ডাক দিব সর্বস্তরের মানুষ যেন সারিবদ্ধভাবে সেই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে থাকে। আন্দোলন ছাড়া কোন অধিকার আদায় করাা সম্ভব না। 

বিগত দিনের এই এলাকার সংসদ নুরুজ্জামান ১০ বছর মন্ত্রী থাকাকালে এলাকার কোন উন্নয়ন করে নাই। তারা শুধু নিজ দলের নেতা-কর্মী ও আত্নীয় স্বজনদের আখ গোছাইছেন আর কোটি,কোটি টাকা আত্নসাৎ করেছেন। এই এলাকায় বার বার এসে জনগন তিস্তা মহা পরিকল্পনার কথা বলেছেন কিন্তু বাস্তবে একটু কাজও করেনি। তারা যে এত অন্যায় অত্যাচার  দুর্নীতির করেছে আজ পরিবার পরিজন নিয়ে আত্নগোপনে আছেন। পরিশেষে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আগামীতে আমরা আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। গনতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ,দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। মানুষকে বুকে নিতে চাই,ভালবাসা দিয়ে অর্জন চাই। মানুষের কল্যান করলেই আজীবন মন্মান পাওয়া যায়। আওয়ামীলীগ সরকার হাজার,হাজার,কোটি,কোটি টাকা দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল তৈরি করেছিল। সেটা কি আজকে আছে? মানুষের ভালবাসা ছিলনা বিধায় সেই ম্যুরাল নেই। তাদের পতন হয়েছে। বিএনপ দলের জন্য মানুষের মনের ভিতর ভালবাসাটুকু থাকলেই চলবে।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশ্য তিনি আরও বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে পানি চলে গেলে তাদের পুর্নবাসনের জন্য বীজ ও সার প্রদান করা হবে।


১৫ বছর যাবত একটি দানব স্বৈরচার  সরকার ক্ষমতায় ছিল তারা জনগনের পাশে ছিলনা শুধু খুন,গুম হত্যার রাজনীতি করেছিল। এদেশে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতাকে পাখির মত গুলি করে প্রায় ১৫ শত মানুষকে হত্যা করেছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে আহত করেছে। কাহারো হাত নেই,কাহারো চোখ নেই, কাহারো নাক নেই। তারপরও শেখ হাসিনা দমে থাকে নি। একটি সরকার যখন ক্ষমতায় বসে জনগনকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব নেয়। সেই দেশের সরকার কিনা জনগনকে গুলি করে তারা হল স্বৈরচার,খুনি। জনগনের নিরাপত্তার জন্য ট্যাক্সের টাকায় গুলি কিনে সেই গুলি এখন আমাদের বুকে চালিয়ে হত্যা করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যখন বাংলাদেশে লক্ষ কোটি মানুষ গনভবনে যাচ্ছিল তখন হাসিনা বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীর হেলিকাপ্টারে পাশ্ববর্তি দেশে ভারতে পালিয়ে যায়। শেখ হাসিনা এর আগে বলেছিল সে পালাইনা,তারপরও পালিয়েছে। আমার প্রশ্ন হল একজন বিনা পাসপোর্ট,বিনা ইমিগ্রেশনে কিভাবে সে দেশে গেল। একটি দেশে যেতে হলে পাসপোর্ট, ভিসা লাগে। সেই দেশ সম্পর্কে বলতে চাই একজন খুনি,জালেম,দেশ ধ্বংসকারী এবং দুর্নীতিবাজ সরকারকে কিভাবে তারা আশ্রয় দিল। আশ্রয় দিয়েছে এ কারনে আমার দেশের সিমান্তে যখন গুলি হয় লালমনিরহাটে প্রতিদিন দেখা যায় সিমান্ত অঞ্চলে ভারতের বিএসএফ বাহিনীরা অনেক লোককে গুলি করে মারে। তখন শেখ হাসিনা একটু প্রতিবাদও করে না। হাসিনা সরকার বলত যতই গুলি করে মার না কেন সমস্যা নাই শুধু আমাকে ক্ষমতায় রাখ এই চুক্তিই করেছিল ভারতে সাথে। এজন্য শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আশ্রয় দিয়েছে যা আস্তর্জাতিক আইন অমান্য করেছে। ভারত সরকারকে বলতে চাই এই খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেন।তার বিরুদ্ধে খুস,গুম ও দুর্নীতির বিচার করা হবে। আমরা ১৫ বছর খুবই নির্যাতীত ছিলাম।কোন কথা বলতে পারি নাই। কথা বললেই খুন,গুম ও মিথ্যা মামলা দায়ের করত। আওয়ামীলীগ যত ধরনের অপকর্ম করছে বলে শেষ করা যাবেনা। তারা সংসদ নির্বাচনে ১৮ সালে নির্বাচনে জোর করে দিনের ভোট রাতে করেছে আর ২৪ সালে ডামি নির্বাচন করেছে যেটা দেশ ও বিদেশে গ্রহনযোগ্য হয়নি। গাঁয়ের জোরে ক্ষমতায় ছিল। তাদের শাষনামলে আওয়ামীলীগে ভরপুর গাছের পাতা পর্যন্ত ছিল আওয়ামীলীগ। বর্তমানে কি তারা আছে,নাই তাদের যাবতীয় অপকর্মের জন্য আজ পতন হয়েছে। দেশে যতবারই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেছি এভাবেই তাদের পতন হয়েছে। কোন লোক ছিলনা এমন কি জানাযা পড়ার মত লোকও ছিলনা। সুতরাং মনে রাখতে হবে যারা জুলুমবাজ, খুনী মাসুষের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করে তাদের পরিনিতি আল্লাহর তরব থেকে গজব নাযিল হয়। যুগে যুগে ফেরাউন নমরত পৃথিবীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। শেখ হাসিনাও পারেনি। নেতাকর্মিদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা সজাগ থাকুন দেশে এখনও হাসিনা বিদেশে থেকে ষড়যন্ত্র করছে।  

অর্ন্তবর্তি সরকারের উদ্দেশ্য বলেন, অতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। কেননা রাজনৈতিক নেতা ছাড়া রাষ্ট্র সঠিকভাবে চলতে পারেনা।রাজনৈতিক নেতাদের সাথে জনগনের সঙ্গে সম্পর্ক্য থাকে। তাদের আবেদন, অভাব,অনটন সব কিছুই রাজনৈতিক লোকদের নিকট বলে। সুতরাং অর্ন্তবর্তি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে আমরা সময় দিতে চাই অতি অল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার করে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবী করেন। সেই নির্বাচনে দেশের জনগন তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবে। মুক্তভাবে ম্বাধিনভাবে প্রত্যক নাগরিক যাতে অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এই নির্বাচনে যে জয়লাভ করবে আমরা মেনে নিব যাতে দিনের ভোট আর রাতে না হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আমিনুল ইলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম,সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন, যুবদলের সভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ, আদিতমারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ছালেকুজ্জামাম সালেক,সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হবিবুর রহমান হবি, যুগ্ন আহবায়ক নাদিরুল ইসলাম মানিক,যুবদলের আহবায়ক ইদ্রিস আলী ও সদস্য সচিব হাসানুল হক বান্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।