কোন এলাকার মানব সম্পদকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হলে সে এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হয়, নইলে শিক্ষিত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো সম্ভব নয়। আমার জন্ম ভুমি লালমনিরহাট জেলা যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রের সুষম বণ্টনে বঞ্চিত অবহেলিত থাকায় শিক্ষিতের হার কম এবং বেকারত্ব বেশি। কর্মসংস্থানের অভাবে শ্রমজীবী মানুষ ইদানীং শ্রমের সন্ধানে নীজ জেলা থেকে বেড়িয়ে ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পরছে অথচ অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জেলায় শিল্প উন্নয়নের গতি খুবই সীমিত। গোটা জেলায় হাতে গোনা কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তবে তাদের কাঙ্ক্ষিত মান সন্তোষজনক নয়। কি কারণে এমন হয়েছে তা খুঁজতে গিয়ে বেশ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। তার মধ্যে
(১) উদ্যোক্তা-লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বেশিরভাগই ঐ এলাকার আদি বাসিন্দা। যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমি চাষাবাদ বা কৃষির উপর নির্ভর করেই সহজ সরল জীবন যাপন করে আসছেন। বর্তমানে তাদের ঘরে যারা শিক্ষিত হয়েছেন বা হয় তারাও ঝুঁকি এড়াতে কেরানির চাকরিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন অথবা পৈতৃক সম্পত্তি চাষাবাদ করে জীবন যাপন করছেন। কোনভাবেই কোন ঝুঁকি নিয়ে বড় কোন শিল্পকারখানা করতে চান না। স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বড় কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরীর ব্যাপারেও তারা তেমন কোনো আগ্রহ প্রকাশ করে না এমনকি কোন চিন্তাও করে না। ফলে সেখানে উদ্যোক্তা নাই বললেই চলে এখন পর্যন্ত যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হয়েছে তার দুই একজন ছাড়া সবাই মাইগ্রেট জনসংখ্যা। যারা ঢাকা বরিশাল নোয়াখালি থেকে লালমনিরহাট জেলায় মাইগ্রেশন করে এসেছে।
(২) ভৌগোলিক, অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক কারণ-লালমনিরহাট জেলার আয়তন এবং সীমানা লম্বালম্বি। একটি রোডের উপর ভিত্তি করে এই জেলাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর। ভৌগলিক অবস্থা লম্বালম্বি হওয়ার কারণে এবং জেলার সদরের অবস্থান জেলার এক পাশে থাকার কারণে জেলার এক কর্নার থেকে আরেক কর্নারে আসা যাওয়াতে মানুষের যে পরিমাণ সময় নষ্ট হয় তাতে কোন কিছু করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় না। জেলার অবস্থান চিকন এবং লম্বালম্বি যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যম রেল ও সড়ক একই সঙ্গে হওয়ার কারণে দুইটি সুবিধা এক জায়গায় আবদ্ধ এর ফলে অন্য এলাকার মানুষ রেল ও সড়কপথের তেমন উপকৃত হয় না।
(৩) যোগাযোগ ও লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতা: রাজধানী ঢাকা এবং প্রধান সমুদ্রবন্দর (চট্টগ্রাম ও মোংলা) থেকে লালমনিরহাটের দূরত্ব অনেক বেশি। ভারী শিল্পপণ্যের কাঁচামাল পরিবহন এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের মূল বাজারগুলোতে পাঠানো সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় কারনে শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে পারছে না।
(৪) জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন শক্তির অভাব: ভারী বা মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস ও স্থিতিশীল উচ্চভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। এ অঞ্চলে পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধার অনুপস্থিতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অস্থিরতা উদ্যোক্তাদের কারখানা স্থাপনে নিরুৎসাহিত করে। বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে শেষ সীমানা বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৯৩ কিলোমিটারের দুরত্বে বিদ্যুৎ লাইনে যেতে যেতে ১১ হাজার ভোল্টেজ ৯ হাজার ভোল্টেজে হ্রাস পায়। এত কম ভোল্টেজে কোন মেশিন চালানো সম্ভব হয় না।
(৫) নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: এই জেলাটি তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় জেলায় প্রতি বছর নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকে। এই প্রাকৃতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি বড় বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামোগত ঝুঁকির ভয়ে বিনিয়োগ করতে চান না।
(৬) স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক শিল্পের অভাব: জেলায় ধান, ভুট্টা, আলু ও তামাকের প্রচুর ফলন হলেও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা (Agro-processing plants) বা আধুনিক হিমাগারের যথেষ্ট বিকাশ ঘটেনি। ফলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন (value addition) স্থানীয় পর্যায়ে কম হয়।
(৭) পুঁজি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ঘাটতি: স্থানীয় পর্যায়ে বড় পুঁজির উদ্যোক্তার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে, দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বন্দরসংলগ্ন বা ঢাকার নিকটবর্তী অঞ্চলে কারখানা স্থাপনকে প্রাধান্য দেয়। ফলে এ জেলায় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠে না।
(৮) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধীর বাস্তবায়ন: লালমনিরহাট জেলায় তিস্তা কিংবা ধরলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল ছাড়া বড় কোন শিল্প কারখানা করার মত কোন জায়গা নেই কিন্তু এই দুইটি নদীর দুই তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় পর্যাপ্ত জমির অভাবে কোন শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে না। তাছাড়াও বিভিন্ন সময় অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইপিজেড গড়ে তোলার আলোচনা ও পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পরিকল্পিত প্লট ও সমন্বিত ইউটিলিটি সুবিধা না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হতে পারেননি।
(৯) দক্ষ মানবসম্পদের সংকট: লালমনিরহাট জেলায় ভাল মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য যে ধরনের বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষার বিস্তার দরকার, তার ঘাটতি রয়েছে। শিল্প ও কারখানা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল দূর থেকে নিতে হয়। লালমনিরহাট একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে এবং অন্যান্য আনুষাণিক সুবিধা কম থাকার কারণে দক্ষ জনবল সেখানে থাকতে চায় না বিধায় দক্ষ জনবলের অভাবে সেখানে তেমন কিছুই গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
কোন এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ার জন্য সকল সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায় না। তেমনি লালমনিহাট জেলায় সকল সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া না গেলেও এর বিশেষ কিছু সুবিধা রয়েছে যা বিবেচনা করে এখানে শিল্পাঞ্চল বা শিল্প কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব নিম্নে তার কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হলো-
(১) যেহেতু লালমনিরহাট জেলায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত জেলা ও শহর কেন্দ্রিক নিজস্ব মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২,৯১৭ একর। ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা বিশাল রেলওয়ে বসতি, ওয়ার্কশপ, লোকোশেড, কোয়ার্টার ও স্টেশনের কারণে এই জমির বড় অংশই শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই বিপুল পরিমাণ জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দ্বারা বেদখল বা অননুমোদিত ব্যবহারের আওতায় রয়েছে, যা উদ্ধার করে রেল ভিত্তিক বৃহৎ মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা করা সম্ভব।
(২) যেহেতু লালমনিরহাট জেলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন মোট জমির পরিমাণ ১,১৬৬ একর। এই জমিটি মূলত লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি ইউনিয়নভুক্ত বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে (১৯৩১ সালে) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সামরিক বিমানঘাঁটি হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিমানবন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকাটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলে আসে। বর্তমানে রানওয়ে, বিভিন্ন স্থাপনা, কৃষি প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় (BSMRAAU)-এর জন্য নির্ধারিত স্থানসহ এই সম্পূর্ণ ভূসম্পত্তি বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণভাবে চালু করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান করা সম্ভব। বিমান কেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপন করে এলাকায় দক্ষ মানব শক্তি তৈরি করা সম্ভব। কিংবা সরকারি অস্ত্র কারখানা স্থাপন করেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
৩) যেহেতু লালমনিরহাট জেলায় সওজের আওতাধীন মোট সড়কের দৈর্ঘ্য ১৮৭.২১ কিলোমিটার। যার মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক: প্রায় ১২৯.৫৪ কিলোমিটার (যার মধ্যে ২টি জাতীয় মহাসড়ক ও ১টি আঞ্চলিক মহাসড়ক অন্তর্ভুক্ত)। জাতীয় মহাসড়ককে বাংলাবান্ধা ও চ্যাংরাবানধা এলাকায় চার দেশীয় মহাসড়কের সংগে সংযোগ করে ভারত নেপাল ভুটান বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে বুড়িমারী জিরো পয়েন্টের কাছে ধরলা নদীর পূর্ব পাশে ইপিজেড নির্মাণ করে বুড়িমারী স্থলবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব। ফলে সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাছাড়াও বুড়িমারী জিরো পয়েন্টের ধরলা নদীর পানি অতি স্বচ্ছ এবং মিষ্টি। হিমালয়ের পাদদেশের শিখড় এখানে এসে শেষ হয়েছে বিধায় হিমালয়ের শেখর নিংড়ানো পানি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং স্বচ্ছ। তাই এই জায়গায় বড় বড় পানির ফ্যাক্টরি তৈরি করে নদী দিয়ে পাইপলাইন বসিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মিষ্টি পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এমনকি এ পানি বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে।
(৪) যেহেতু লালমনিরহাট জেলায় প্রধান নদী ও শাখা নদী মিলিয়ে মোট নদীপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৫ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। তার মধ্যে তিস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ থেকে ১১২ কিলোমিটার। যা ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী হয়ে সদর উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং ধরলা নদীর প্রবাহ প্রায় ৫৫ থেকে ৫৭ কিলোমিটার, যা মূলত পাটগ্রাম ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। তাছাড়াও অন্যান্য শাখা নদী ও উপনদী যথা সানিয়াজান, মালদাহ, স্বর্ণামতি, ত্রিমোহিনী, ভেটেশ্বরী ও গিঙ্গাধর মিলিয়ে আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার জলপথ রয়েছে। শুকনো মৌসুমে এই নদী গুলোর নাব্যতা হ্রাস পায়। অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে (শীত ও বসন্তে) তিস্তা ও ধরলার মূল প্রবাহ শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হওয়ায় নৌযান চলাচলের পথ ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে প্রায় পুরো নদীপথই ছোট-মাঝারি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং পণ্য পরিবহনের জন্য সচল থাকে। তাই এ নদী গুলোকে যথাযথ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খননের মাধ্যমে দুই তীরে ব্যাপক শিল্প উন্নয়ন করা সম্ভব। যেহেতু শিল্পাঞ্চলের জন্য প্রচুর পানি ও জায়গা দরকার তাই এ নদীগুলোকে খনন করে দুই তীরে শিল্পের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়ে নদীপথে স্বল্প খরচে পন্য পরিবহন বা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। এছাড়াও লালমনিরহাট জেলার তিস্তার উজান অঞ্চলের বালু এবং পাথর অত্যন্ত দামি এবং বাংলাদেশে নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এই জায়গায় নির্মাণসামগ্রী তৈরি করার জন্য বিভিন্ন শিল্পকারখানা স্থাপন করার সুযোগ সুবিধা রয়েছে। যার মালামাল নদী পথে রেল পথে ও সড়ক পথে পরিবহন করা সম্ভব।
(৫) যেহেতু লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর উভয় তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব অপরদিকে বাংলাদেশে যেখানে সেখানে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সুবিধা কম তাই তিস্তা নদীর উভয় তীরে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া দরকার। ইতিমধ্যেই আমার অনুপ্রেরণায়, উদ্যোগে তিস্তা নদীর চরে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে। (তিস্তা সোলার ও পারামাউনড সোলার) যার সুবিধা বর্তমানে গোটা রংপুর বিভাগ ভোগ করতেছে। তাই সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গোটা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। তাছাড়াও ক্ষেত্রে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং সোলার বিদ্যুৎ সংক্রান্ত পন্য উৎপাদনের জন্য ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প কারখানা সথাপন করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।
(৬) লালমনিরহাট জেলায় ভারী রাসায়নিক বা স্টিল শিল্পের তুলনায় কৃষিভিত্তিক (Agro-based), নদী বন্দরকেন্দ্রিক প্রক্রিয়াকরণ ও হালকা উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানা স্থাপনের চমৎকার পরিবেশ ও কাঁচামালের সুবিধা রয়েছে:
(ক) ভুট্টা ও পোল্ট্রি/ডেইরি ফিড মিল-লালমনিরহাট জেলায় উৎপাদিত ভুট্টার ওপর ভিত্তি করে কর্নফ্লেক্স, ভুট্টার স্টার্চ, গ্লুকোজ, তেল এবং বৃহৎ আকারের পোল্ট্রি, মাছ ও গবাদিপশুর ফিড মিল (Feed Mill) স্থাপনের বিপুল সুযোগ রয়েছে।
(খ). আলু ও সবজি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প- লালমনিরহাট জেলায় বিপুল পরিমাণ আলু ও মৌসুমি শাকসবজি উৎপাদিত হয়। তাই সেগুলোকে কাঁচামাল ধরে পটেটো চিপস, ফ্লেক্স, স্টার্চ কারখানা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ভিত্তিক প্যাকিং কারখানা স্থাপন অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।
(গ). বুড়িমারী বন্দরভিত্তিক আমদানি প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিং-বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটান ও ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বোল্ডার পাথর, কয়লা ও ফলমূল আমদানি হয়। আধুনিক স্টোন ক্রাশিং মিল, রেডি-মিক্স কংক্রিট প্ল্যান্ট, ফলমূল বাছাই ও প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস ডিপো বা ওয়্যারহাউস গড়ে তোলার সরাসরি সুবিধা রয়েছে।
(ঘ) চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানা-লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলার সমতলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক পরিসরে চা চাষ হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানা (Tea Processing Factory) স্থাপন করলে কৃষকরা সরাসরি কাঁচামাল সরবরাহ করতে পারেন।
(ঙ) তামাকের বিকল্প ও ঔষধি শিল্প-জেলায় তামাকের ব্যাপক চাষ হয়। বিদ্যমান অবকাঠামো ও দক্ষ শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে তামাক প্রক্রিয়াকরণের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ঔষধি গাছ (হার্বাল/আয়ুর্বেদিক) প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব।
(চ) টেক্সটাইল, পোশাক ও জুট মিলস- লালমনিরহাট জেলায় শ্রমব্যয় তুলনামূলকভাবে কম এবং প্রচুর কর্মক্ষম নারী-পুরুষ শ্রমিক রয়েছেন। তাই অল্প মজুরিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে চর ও অববাহিকা অঞ্চলে উৎপাদিত পাটের ওপর নির্ভর করে আধুনিক জুট মিল (পাটের সুতা, ব্যাগ ও হস্তশিল্প) এবং হালকা গার্মেন্টস/নিটিং কারখানা স্থাপন বেশ সম্ভাবনাময়।
কে কিভাবে লালমনিরহাট জেলাকে সমৃদ্ধ করবে? লালমনিরহাট জেলার সকল সম্ভাবনাময় পরিকাঠামো একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার আওতায় সরকারের নীতিমালা তৈরি করে তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী জেলা জায়গা হিসেবে তৈরি করা সম্ভব। আশা করি সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বশীল মন্ত্রী এমপি ও নেতৃবৃন্দ এই পরিকল্পনার একটি ছক তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবেন।
লেখক: মুহাম্মদ ইয়ার আলী
চোরাচালন ব্যবসা ও সীমান্ত রাজনীতি
২ দিন আগে
হৃদয়ের মিনারে আজও যাঁর নাম ‘ওস্তাদজী’
৪ দিন আগে