মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার ওস্তাদজীকে নিয়ে কিছু কথা!
কিছু মানুষের মৃত্যু হয়, কিন্তু তাঁদের প্রস্থান ঘটে না। তাঁরা থেকে যান মানুষের কথায়, স্মৃতিতে, প্রার্থনায় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত মূল্যবোধে। তাঁদের পদচিহ্ন সময়ের ধুলোয় মুছে যায় না; বরং যত দিন যায়, ততই তা হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও মহিমান্বিত।
মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার স্যার ছিলেন তেমনই একজন মানুষ। কালীগঞ্জের অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন ধর্মীয় শিক্ষক কিংবা মসজিদের ইমাম ছিলেন না। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘ওস্তাদজী’—একজন শিক্ষক, অভিভাবক, নৈতিক পথপ্রদর্শক এবং সমাজের নির্ভরতার প্রতীক। আজও তাঁর নাম উচ্চারিত হলে প্রবীণ শিক্ষার্থীদের চোখে ভেসে ওঠে এক দৃঢ় অথচ স্নেহময় মুখ। কানে বাজে তাঁর শাসনমিশ্রিত মমতাপূর্ণ কণ্ঠ। মনে পড়ে এমন একজন মানুষের কথা, যাঁর উপস্থিতি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে মসজিদের মিহরাব এবং সামাজিক আয়োজনের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল।
১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বজড়া তবকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার। তাঁর পিতা মোঃ বাসতুল্লাহ সরকার এবং মাতা মোছাঃ ময়মুন নেছা। নদীবিধৌত চিলমারীর সহজ-সরল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই মানুষটির জীবনবোধে ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন জীবনের ব্রত হিসেবে।
সময়ের হিসাবে দিনটি ছিল ১৯৬৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। মাত্র বিশ বছর বয়সে মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। তাঁর স্কুল আইডি নম্বর ছিল ২৪০৮৮৫।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে চিলমারী থেকে কালীগঞ্জে যাতায়াত খুব কঠিন মনে না-ও হতে পারে। কিন্তু ষাটের দশকের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যোগাযোগব্যবস্থা ছিল অনুন্নত; পথ ছিল দীর্ঘ, দুর্গম ও কষ্টসাধ্য। নদীপথ, কাঁচা রাস্তা এবং সীমিত যানবাহনের সেই সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া ছিল রীতিমতো সংগ্রামের বিষয়।
কিন্তু দূরত্ব তাঁর দায়িত্ববোধকে পরাজিত করতে পারেনি। প্রতিকূল পথ তাঁকে ক্লান্ত করেছে, কিন্তু কর্তব্য থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারেনি। কারণ তাঁর কাছে শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরি ছিল না; এটি ছিল মানুষ গড়ার সাধনা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার অর্পিত এক পবিত্র দায়িত্ব। দূর চিলমারী থেকে তিনি এসেছিলেন কালীগঞ্জে। তারপর ধীরে ধীরে এই জনপদই হয়ে উঠেছিল তাঁর কর্মভূমি, ভালোবাসার ঠিকানা এবং দ্বিতীয় জন্মভূমি।
বিদ্যালয়ে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই সাফায়েত উল্লাহ সরকার স্যার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক এবং এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। তাঁকে কেউ শুধু ‘স্যার’ বলে চিনত না। সকলের মুখে মুখে তিনি হয়ে উঠেছিলেন—‘ওস্তাদজী’। এই একটি সম্বোধনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাঁর প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, গভীর বিশ্বাস ও অপরিসীম শ্রদ্ধা। ‘ওস্তাদজী’ নামটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি ছিল না; এটি ছিল মানুষের হৃদয় থেকে পাওয়া তাঁর সবচেয়ে বড় সম্মাননা।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে তিনি শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্মের পাঠ দিতেন। তবে তাঁর শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নোত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি শিক্ষার্থীদের সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা দিতেন।
তিনি বুঝতেন—শুধু ভালো ফলাফল করলেই একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে না। তার মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ না থাকলে শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে না। তাই তাঁর পাঠে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি থাকত সুন্দর চরিত্র গঠনের আহ্বান। তিনি চাইতেন তাঁর শিক্ষার্থীরা জ্ঞানী হওয়ার আগে মানুষ হোক, নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকুক এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করুক।
ওস্তাদজী শিক্ষার্থীদের যেমন গভীরভাবে ভালোবাসতেন, তেমনি প্রয়োজনে কঠোর শাসনও করতেন। তবে তাঁর শাসন কখনো ব্যক্তিগত রাগ কিংবা বিরক্তির প্রকাশ ছিল না। সেই শাসনের গভীরে ছিল শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের প্রতি উদ্বেগ, দায়িত্ব এবং ভালোবাসা। কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে তিনি তাকে সংশোধন করতেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে দৃঢ় কণ্ঠে সতর্ক করতেন। আবার সেই শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে কিংবা কোনো সমস্যায় পড়লে তিনিই সবার আগে স্নেহের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তাঁর কাছে শাসন মানে কাউকে ছোট করা ছিল না; শাসন ছিল ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক পথে দাঁড় করানো। তাই শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভয় করত, আবার ভালোও বাসত। তাঁর সামনে দাঁড়ালে মনে শঙ্কা জাগত, কিন্তু বিপদে পড়লে সেই শিক্ষার্থীরাই নির্ভয়ে তাঁর কাছে ছুটে যেত। একজন শিক্ষক যখন একই সঙ্গে শাসন ও আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে ওঠেন, তখনই তিনি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেন। ওস্তাদজী ছিলেন সেই বিরল শিক্ষকদের একজন।
মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার স্যারের কর্মপরিধি শুধু বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি দীর্ঘকাল কালীগঞ্জ বাজার মসজিদে ইমামতি করেছেন। মসজিদের মিহরাবে দাঁড়িয়ে তিনি মানুষকে নামাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ধর্মীয় মূল্যবোধ, ন্যায়, সততা ও মানবিকতার কথা বলেছেন। তাঁর কণ্ঠে মানুষ ধর্মের বাণী শুনেছে এবং তাঁর জীবনাচরণে সেই বাণীর বাস্তব প্রতিফলন দেখেছে। একজন মানুষের প্রকৃত শিক্ষা তাঁর কথায় নয়, কাজে প্রকাশ পায়। ওস্তাদজীর জীবন ছিল তাঁর শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
তিনি শুধু নৈতিকতার কথা বলতেন না—নিজে তা অনুসরণ করতেন। তিনি শুধু সততার উপদেশ দিতেন না—নিজের জীবন দিয়ে সততার উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। সমাজে নীতি ও নৈতিকতা রক্ষার প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা সত্যের সঙ্গে আপস করা তাঁর স্বভাবে ছিল না। সামাজিক অবস্থান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা কোনো ধরনের চাপ তাঁকে ন্যায়ের পথ থেকে সরাতে পারেনি। তাঁর এই দৃঢ়তা কখনো কখনো মানুষকে শাসনের মুখোমুখি করেছে, কিন্তু তাঁর সততা নিয়ে কারও মনে প্রশ্ন ছিল না। সবাই জানত—ওস্তাদজী যা বলেন, তা মানুষের কল্যাণের জন্যই বলেন। এ কারণেই সমাজের মানুষ তাঁকে শুধু শ্রদ্ধা করত না; তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখত।
বিদ্যালয় কিংবা কমিউনিটির যেকোনো আয়োজনে ওস্তাদজীর উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক উদ্যোগ, শিক্ষামূলক আয়োজন কিংবা মানুষের সুখ-দুঃখের মুহূর্ত—সবখানেই তিনি ছিলেন সবার নির্ভরতার মানুষ। কোনো আয়োজনের পরিকল্পনায় প্রয়োজন হতো তাঁর পরামর্শ। কোনো জটিলতায় প্রয়োজন হতো তাঁর বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। কোনো বিরোধে প্রয়োজন হতো তাঁর ন্যায়নিষ্ঠ মধ্যস্থতা। আবার কোনো দুঃসময়ে প্রয়োজন হতো তাঁর সাহস ও সান্ত্বনা। তিনি যেখানে উপস্থিত থাকতেন, সেখানে মানুষ একধরনের নিশ্চয়তা অনুভব করত। সবাই বিশ্বাস করত—ওস্তাদজী আছেন, কাজটি সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হবে। এই বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর দায়িত্বশীলতা, সততা, আত্মত্যাগ এবং মানুষের পাশে থাকার মধ্য দিয়েই তিনি এই সম্মান অর্জন করেছিলেন।
কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদ মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার স্যারকে সন্তানতুল্য মনে করতেন। এই সম্পর্কটি কেবল একজন প্রতিষ্ঠাতা ও একজন শিক্ষকের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল না। এর মধ্যে ছিল গভীর স্নেহ, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। আলহাজ্ব করিম উদ্দিন আহমেদ নিশ্চয়ই ওস্তাদজীর মধ্যে এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে দেখতে পেয়েছিলেন, যাঁর হাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের দায়িত্ব নিরাপদ। ওস্তাদজীও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছিলেন। নিজের যৌবন, শ্রম, মেধা ও জীবনের মূল্যবান সময় তিনি বিদ্যালয় এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে নিবেদন করেছিলেন। বিদ্যালয়ের ইতিহাসে তাঁর নাম তাই শুধু একজন শিক্ষকের তালিকায় লেখা নাম নয়; এটি একটি সময়ের, একটি আদর্শের এবং একটি নৈতিক উত্তরাধিকারের নাম।
২০০২ সালের ২০ জুন। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার স্যার পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালীগঞ্জের আকাশ যেন বিষণ্ন হয়ে উঠেছিল। বিদ্যালয়ের পরিচিত প্রাঙ্গণ, মসজিদের মিহরাব এবং এলাকার মানুষের হৃদয়জুড়ে নেমে এসেছিল গভীর শূন্যতা। একজন মানুষ চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যেন বিদায় নিয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকসুলভ উপস্থিতি, একটি মসজিদের পরিচিত কণ্ঠ এবং একটি জনপদের নৈতিক সাহস। সেদিন হয়তো তাঁর অগণিত শিক্ষার্থী বিশ্বাসই করতে পারেনি—যে মানুষটি এত দিন তাদের শাসন করেছেন, আদর করেছেন, সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে আর বিদ্যালয়ের পথে দেখা যাবে না। কালীগঞ্জ বাজার মসজিদের মুসল্লিরা আর তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন না। কোনো সামাজিক আয়োজনে সবাইকে ছাপিয়ে শোনা যাবে না তাঁর দৃঢ় কণ্ঠ। ভুল করলে কোনো শিক্ষার্থী আর শুনবে না তাঁর সেই পরিচিত শাসন।
তবু কি সত্যিই তিনি চলে গেছেন? মৃত্যুকালে তিনি তাঁর সহধর্মিণী মোছাঃ ফরিদা বেগম এবং সাত সন্তানকে রেখে যান। তাঁদের সন্তানরা হলেন—মোঃ ফরিদুল ইসলাম মিলু, মোঃ শরিফুল ইসলাম মিঠু, মোছাঃ শাহনাজ পারভিন পলি, মোঃ ওয়ারেসুল ইসলাম টিটুল, মোছাঃ সানজিদা পারভিন পপি, মোছাঃ ফারজান আক্তার কলি এবং ওয়াহেদুল ইসলাম ছোটন। একজন পিতা হিসেবে তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য রেখে গেছেন শুধু একটি পরিচয় নয়—রেখে গেছেন সততা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের ভালোবাসায় সমৃদ্ধ এক অমূল্য উত্তরাধিকার। তাঁর সন্তানদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহময় পিতা। শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। মুসল্লিদের কাছে ছিলেন সম্মানিত ইমাম। আর সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের এক নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ। একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় অর্জন আর কী হতে পারে?
মাওলানা সাফায়েত উল্লাহ সরকার স্যার আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু কালীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও ‘ওস্তাদজী’ হিসেবেই বেঁচে আছেন। তাঁর হাজার হাজার শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন। তাঁরা হয়তো জীবনের ব্যস্ততায় বিদ্যালয়ের দিনগুলো থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন। কিন্তু স্মৃতির কোনো এক শান্ত বিকেলে যখন পুরোনো দিনের দরজা খুলে যায়, তখন তাঁদের সামনে নিশ্চয়ই ভেসে ওঠে ওস্তাদজীর মুখ।
মনে পড়ে তাঁর স্নেহ। মনে পড়ে তাঁর শাসন। মনে পড়ে তাঁর ন্যায়নিষ্ঠ ও দৃঢ় চরিত্র। মনে পড়ে এমন একজন শিক্ষকের কথা, যিনি শুধু ধর্মের পাঠ পড়াননি—নিজের জীবন দিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। আজ তাঁর কোনো শিক্ষার্থী যখন সত্যের পক্ষে দাঁড়ান, ন্যায়বিচার করেন, অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখেন কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান—তখন সেই কাজের মধ্যেই যেন ওস্তাদজীর শিক্ষা নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। তিনি ছিলেন শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক, কিন্তু তাঁর পাঠের পরিধি ছিল সমগ্র জীবন। তিনি ছিলেন মসজিদের ইমাম, কিন্তু তাঁর নৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্র ছিল সমগ্র সমাজ। তিনি ছিলেন একটি পরিবারের পিতা, কিন্তু স্নেহ ও দায়িত্ব দিয়ে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে।
প্রিয় ওস্তাদজী—
সময় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ে নতুন প্রজন্ম এসেছে। শ্রেণিকক্ষের চেহারা বদলেছে। শিক্ষার উপকরণ বদলেছে। কালীগঞ্জের পথঘাট এবং যোগাযোগব্যবস্থাও বদলে গেছে। কিন্তু বদলায়নি আপনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা।
আপনি যে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে চিলমারী থেকে কালীগঞ্জে এসেছিলেন, সেই পথ একদিন শেষ হয়েছিল। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে আপনার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার কোনো সমাপ্তি নেই। আপনি চলে গেছেন, কিন্তু আপনার আদর্শ রয়ে গেছে। আপনার কণ্ঠ থেমে গেছে, কিন্তু আপনার শিক্ষা আজও কথা বলে। আপনার শাসনের দিন শেষ হয়েছে, কিন্তু সেই শাসনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা আজও আপনার শিক্ষার্থীদের চোখ ভিজিয়ে দেয়।
কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে, কালীগঞ্জ বাজার মসজিদের স্মৃতিতে এবং এই জনপদের হাজারো মানুষের হৃদয়ে আপনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় মানুষ আপনাকে স্মরণ করবে— একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে, একজন ন্যায়নিষ্ঠ সমাজনেতা হিসেবে, একজন সম্মানিত ইমাম হিসেবে, এবং সবার প্রিয় সেই চিরচেনা নামে— আমাদের ‘ওস্তাদজী’।
খুরশীদুজ্জামান আহমেদ
প্রধান শিক্ষক
কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন (কেইউ) পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
চোরাচালন ব্যবসা ও সীমান্ত রাজনীতি
১৭ ঘন্টা আগে
ওয়াজ মাহফিল বিকল্প কর্মসংস্থান
৩ দিন আগে
স্ত্রীর আয় নয়, সংকট পুরুষের পুরোনো পরিচয়ে
১ সপ্তাহ আগে