দেশের সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড কিংবা কারিকুলাম কমিটির সদস্যরা স্বীকার করুন বা না করুন বাস্তবতা হলো, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ক্রমান্বয়ে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাক্রমের দিকে ঝুঁকছে।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান ও নৈতিকতার চর্চা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ঘন ঘন শিক্ষাক্রম পরিবর্তন—বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার রূপবদলকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে না। ফলে তারা সরকারি ব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নিজেদের সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াতে চান না। অধিকাংশ শিক্ষক সরকারি স্কুলে চাকরি করলেও সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন কিংবা মানসম্মত বেসরকারি স্কুলে পাঠান। অনেকে গ্রামে চাকরি করে সন্তানকে শহরের স্কুল-কলেজে পড়ানোর জন্য শহরে বাসা ভাড়া নেন। শহর থেকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০০ু১৫০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালিয়ে গ্রামে যাতায়াত করেন, যা একদিকে জ্বালানি ও পরিবেশের ক্ষতি করছে, অন্যদিকে শিক্ষক হিসেবে জাতির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার চরম ঘাটতি প্রকাশ করছে। অন্যদিকে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কোনো একক বোর্ড, কারিকুলাম কমিটি বা তদারকি কাঠামো না থাকলেও সেখানে শিক্ষার মান ও নৈতিকতা সাধারণ সরকারি ব্যবস্থার চেয়ে অনেক এগিয়ে। সাধারণ অভিভাবকরা চান মানসম্মত ও নীতিবান শিক্ষা।শিক্ষার নামে কোনো রাজনৈতিক মিথ্যাচার তারা গ্রহণ করতে প্রস্তুত নন। সরকারি শিক্ষাক্রমের ওপর আস্থা হারিয়ে মানুষ সব সুযোগ-সুবিধা ফেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জে পাড়ায় পাড়ায় আজ কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার ভিড় স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, প্রচলিত সরকারি শিক্ষানীতি জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে কোনো শিক্ষানীতি কার্যকর হতে পারে না। ধর্ম মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাকে বাদ দিয়ে টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গঠন অসম্ভব। ধর্ম ও বিজ্ঞানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা বন্ধ করা প্রয়োজন। ধর্মহীনতা বা ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগান অনেক ক্ষেত্রে মুখে সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তবে মানুষ নিজ বিশ্বাস ও ধর্মের আলোকেই সন্তানকে পরিচালিত করতে চায়। এছাড়া সমাজে একটি বৈপরীত্যও দৃশ্যমান—অনেক অবৈধ উপার্জনকারী সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী শেষ বয়সে সওয়াব অর্জনের আশায় মাদ্রাসা নির্মাণ বা অর্থায়ন করেন, অথচ নিজেদের সন্তানদের সেখানে পড়ান না। জনগণের বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা সাজালে তা বিশৃঙ্খল রূপ নেবে এবং শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ আরও তীব্র হবে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে গবেষণা করা প্রয়োজন। সরকার যদি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সর্বজনীন নৈতিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাস্তবসম্মত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করে, তবেই দেশের সামগ্রিক মঙ্গল নিশ্চিত হবে।
ধন্যবাদ
তিস্তা চরের জীবন
১ দিন আগে
রাজনীতির খাল ?
৬ দিন আগে
কেন কৃষি লাভজনক হচ্ছে না? ( পর্ব-২ )
১ সপ্তাহ আগে
কেন কৃষি লাভজনক হচ্ছে না? ( পর্ব-১ )
১ সপ্তাহ আগে
নেতা দেশ প্রেমিক কি না যাচাই করার উপায়
৩ সপ্তাহ আগে