লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এক স্বামীকে নিয়ে দুই নারীর প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী একে অপরের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে সরিয়ে নিয়ে যান।
মারামারিতে জড়ানো খাদিজা সুলতানা মৌ নিজেকে লিটন সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তার দাবি, লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। এ সংক্রান্ত তালাকনামাও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ফাতেমা বেগম নিজেকে লিটনের প্রথম স্ত্রী দাবি করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নারীর মধ্যে তর্কের সময় একে অপরকে লিটনের সঙ্গে বিয়ে ও তালাকের বিষয় নিয়ে নানা কথা বলতে শোনা যায়।
পরে স্থানীয়রা দুই নারীকে গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপনের জিম্মায় দেন। রিপন মেম্বার তাদের চায়না বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় তৈরি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুজনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
খাদিজা সুলতানা মৌ বলেন, লিটনের সঙ্গে তার সংসার হয়েছে। লিটন তাকে জানিয়েছিলেন, তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতেই তিনি সেখানে এসেছেন। তিনি আরও জানান, তার বাড়ি রংপুরের শালবন এলাকায়।
আলোচিত লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে। তিনি ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
ঘটনার বিষয়ে জানতে লিটন সরকারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি বিয়ে করেছেন বলে জানান। তবে দুই নারীকে নিয়ে তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে মারামারির কারণ এবং খাদিজা তার কত নম্বর স্ত্রী, জানতে চাইলে তিনি আর কথা না বলে সেখান থেকে চলে যান।
গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন বলেন, ফজরের পর তিনি সরিষাবাড়ী হাটে পাট কিনতে গিয়েছিলেন। পরে ফোনে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুই নারীর মারামারির খবর পেয়ে সেখানে যান। দুজনকেই লিটনের স্ত্রী দাবি করতে শুনে তিনি তাদের চায়না বাজারে নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের ভিড় বেড়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুজনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী মিঠু মিয়া বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দুই নারী চুল ধরে মারামারি করছিলেন। স্থানীয়রা তাদের ঝগড়া থামিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী হামিদুল হক বলেন, দুই নারী একে অপরকে লিটন তালাক দিয়েছেন বলে বলতে বলতে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় লিটনকে ঘিরে চায়না বাজার এলাকায় নানা আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের কথা বললেও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির মিঠুলের ইন্তেকাল
১ দিন আগে