মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালক অপহরণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন


প্রকাশ : (৯ ঘন্টা আগে)
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালক অপহরণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভারতীয় এক ট্রাকচালককে অপহরণ করে গুরুতর জখম এবং অর্থ ছিনতাইয়ের বহুল আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপহরণের দায়ে পৃথকভাবে প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ওরফে বুলুর ছেলে রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার শামছুল হক ওরফে সামছুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ। এর মধ্যে সবুজ মিয়া মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট ভারতের বাসিন্দা ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিং (৩৭) পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে বুড়িমারী সড়কের একটি স্থানে তার ট্রাকটি আটকে গেলে তিনি বিপাকে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে অভিযুক্তরা পে-লোডার বা ক্রেনের মাধ্যমে ট্রাকটি উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর গভীর রাতে তাকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা আট হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরদিন স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীনন্দর সিংকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সীমান্ত এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

আদালত দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) এবং ৩৯৪ ধারায় (আঘাতসহ ছিনতাই) তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর এ রায়ের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক নিষ্পত্তি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, “দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিজ্ঞ আদালত যে রায় প্রদান করেছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। একজন বিদেশি নাগরিককে অপহরণ ও নৃশংসভাবে আহত করে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা আশা করি।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।

বিজ্ঞাপন