মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

মাধ্যমিক ও ইবতেদায়িতে বই বিতরণে বিলম্ব, বছরের শুরুতেই ভোগান্তি


প্রকাশ : (৬ মাস আগে)
মাধ্যমিক ও ইবতেদায়িতে বই বিতরণে বিলম্ব, বছরের শুরুতেই ভোগান্তি

নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি দেশে এক ধরনের নিয়মিত আয়োজন হয়ে উঠেছে। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সেই প্রত্যাশিত চিত্র আবারও পুরোপুরি দেখা যায়নি। বছরের শুরু পার হয়ে গেলেও মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো সব পাঠ্যবই পায়নি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানায়, প্রাথমিক স্তরের বই বিতরণ বেশিরভাগই শেষ হলেও মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের বই মুদ্রণ ও সরবরাহে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হয়েছে। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু হওয়ায় ছাপার কাজ পিছিয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে সময়মতো বই বিতরণে। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুর দিকেই অনেক শিক্ষার্থী বই ছাড়া ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এনসিটিবির তথ্যমতে, রোববার (১১ জানুয়ারি) পর্যন্ত দুই কোটি ৯২ লাখ ১৮ হাজার ৬০৯টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। শতাংশের হিসাবে এটি মোট বইয়ের প্রায় ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সংস্থাটি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই বাকি সব পাঠ্যবই বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। তবে আগেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের (ইবতেদায়িসহ) ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬৫টি পাঠ্যবই সরবরাহ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ বই বিতরণ শেষ হবে বলে তিনি জানান।

এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণের অগ্রগতি তুলে ধরে এনসিটিবি জানায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট বইয়ের গড়ে ৮৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

বই সংকটের প্রভাব কিছুটা কমাতে বিকল্প হিসেবে এনসিটিবি সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবির ওয়েবসাইটে সব স্তরের ডিজিটাল বই উন্মুক্ত করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা অন্তত পাঠ্যসূচি অনুসরণ করতে পারে।

তবে বাস্তবে ডিজিটাল বই সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। দেশের অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত থাকায় ছাপানো বইয়ের বিকল্প হিসেবে এটি পুরোপুরি সমাধান দিতে পারছে না। বছরের পর বছর একই ধরনের বিলম্বের পুনরাবৃত্তিতে পাঠ্যবই বিতরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। (সূত্র ইত্তেফাক)

বিজ্ঞাপন