শ্রবণশক্তি হ্রাস শুধু কানে শোনার সমস্যাই নয়; এটি একজন ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসাবিহীন শ্রবণশক্তি হ্রাসের ফলে নিম্নলিখিত ঝুঁকিগুলো দেখা দিতে পারে:
১. যোগাযোগে সমস্যা
- অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হয়, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে।
- বারবার কথা পুনরাবৃত্তি করতে হয়, ফলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
২. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
- পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়।
- একাকীত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণে অনীহা তৈরি হতে পারে।
৩. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
- বিষণ্নতা (Depression), উদ্বেগ (Anxiety) এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিতে পারে।
- মানসিক চাপ ও হতাশা বৃদ্ধি পায়।
৪. স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস
- চিকিৎসাবিহীন শ্রবণশক্তি হ্রাস বয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. শিশুদের শিক্ষা ও ভাষা বিকাশে বাধা
- শিশুদের ভাষা শেখা, কথা বলা ও শিক্ষাগত অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে।
- সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
৬. কর্মক্ষেত্রে সমস্যা
- কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে।
- কর্মজীবনে অগ্রগতি ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৭. দুর্ঘটনার ঝুঁকি
- গাড়ির হর্ন, অগ্নি-সতর্কতা, জরুরি সংকেত বা অন্যের সতর্কবার্তা শুনতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৮. টিনিটাস (Tinnitus)
- অনেকের কানে অবিরাম ভোঁ-ভোঁ, শোঁ-শোঁ বা ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দ শোনা যেতে পারে।
৯. জীবনমানের অবনতি
- টেলিভিশন দেখা, ফোনে কথা বলা বা পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে।
শ্রবণশক্তি হ্রাসের সাধারণ কারণ ও ঝুঁকির কারণ
- বার্ধক্য
- দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকা
- কানের সংক্রমণ
- কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Ototoxic drugs)
- বংশগত কারণ
- মাথায় আঘাত
- ডায়াবেটিসসহ কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ
- কানে অতিরিক্ত ময়লা জমে যাওয়া
প্রতিরোধের উপায়
- উচ্চ শব্দ থেকে কান রক্ষার জন্য ইয়ারপ্লাগ বা ইয়ারমাফ ব্যবহার করুন।
- হেডফোন বা ইয়ারফোনে নিরাপদ মাত্রায় শব্দ শুনুন।
- কানের সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
- কানে কোনো ধারালো বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু প্রবেশ করাবেন না।
- নিয়মিত শ্রবণ পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা উচ্চ শব্দপূর্ণ কর্মস্থলে কর্মরতদের।
- হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে, কানে অবিরাম শব্দ হলে বা কথা বুঝতে অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বার্তা: শ্রবণশক্তি হ্রাস যত দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়, তত ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রয়োজনে হিয়ারিং এইড, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বা শ্রবণ পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করলে যোগাযোগের সক্ষমতা ও জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
লেখক:- নারী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান
বাংলার কাশ্মীরের পথে একদিন
৯ ঘন্টা আগে
জন্ডিস হলেই মসলাবিহীন খাবার খেতে হবে-এ ধারণা ভুল
১৪ ঘন্টা আগে
মায়ের দুধই নবজাতকের প্রথম সুরক্ষা
৪ দিন আগে
মোবাইলেই শনাক্ত করুন হোটেল কক্ষের গোপন ক্যামেরা
২ সপ্তাহ আগে