শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বাণিজ্য

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: তেলশূন্যতার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ


প্রকাশ :

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত টানা ৩৩ দিনে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর—বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Independent-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকট অব্যাহত থাকলে জ্বালানি ঘাটতির মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইতোমধ্যে রাজধানী Dhakaসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব দৃশ্যমান। অনেক পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। কোথাও কোথাও আবার জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে। এতে নগরজীবনে চাপ বেড়েছে এবং সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও কমে এসেছে।

সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কার একটি বড় কারণ হলো Strait of Hormuz ঘিরে অনিশ্চয়তা। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগ স্থাপনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে এশিয়ার বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই রুটে বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি রেশনিংয়ের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতিমালা এবং প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার Eastern Refinery Limited-এ অপরিশোধিত তেলের মজুত অত্যন্ত সীমিত, যা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। একইভাবে ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমে আসছে—মার্চের শুরুতে ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা পূরণের মতো।

এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকটের কথা অস্বীকার করা হচ্ছে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।