রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ বাণিজ্য

নির্বাচনের পর অর্থনীতি ও পোশাক খাতে চাপ, চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার


প্রকাশ :

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা—এই কয়েকটি বিষয় নতুন সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এসব ক্ষেত্রের অগ্রগতি ভবিষ্যতে সরকারের প্রতি জনসমর্থন নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তারা মত দেন।

ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশ্লেষকেরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, মুদ্রার মান নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং বাজারের অস্থিরতা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামী সময়ে প্রবৃদ্ধি কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন পূর্বাভাসে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়গুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু উদ্বেগ এবং পোশাক খাতে শ্রম অসন্তোষ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নীতিগত দিকনির্দেশনা স্পষ্ট না হলে বিনিয়োগ প্রবাহও সীমিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, কিছু সুবিধা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকেরা আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সার্বিকভাবে, অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ—এই বিষয়গুলোতেই নতুন সরকারের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।( সূত্র: ইত্তেফাক)