বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও উদযাপনের এক ঘটনায় নতুন
বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের হাতে
রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার দেখা
যাওয়ায় ফিফার সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা শুরু
হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটি ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধের প্রতি ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ৭৪ দিনের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতিকে সামনে এনে এটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি সমর্থকদের সামনে তুলে ধরছেন। তবে ব্যানারটি কীভাবে মাঠে এলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগেও বিশ্বকাপ চলাকালে
রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। গত
মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের
একটি ম্যাচে দেশটির প্রাক-বিপ্লবী পতাকা প্রদর্শন করেন কয়েকজন ইরানি-আমেরিকান সমর্থক। যদিও ওই ম্যাচে
কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার আগে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পরও আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে ‘মালভিনাস’, ‘দিয়েগো মারাদোনা’ এবং ‘লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ’ নিয়ে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল বলেন, মালভিনাসের বীরদের স্মরণ করতেই তারা গান গেয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ফুটবল ও রাজনৈতিক ইস্যুকে আলাদা রাখা উচিত। তার ভাষায়, অতীতের যুদ্ধ ছিল একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়, নিহতদের প্রতি সম্মান জানানোই তাদের উদ্দেশ্য। মাঠে তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে ওঠা।
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে রাজনৈতিক, বৈষম্যমূলক বা উসকানিমূলক বার্তাবাহী ব্যানার, পতাকা ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ কারণে ঘটনাটি তদন্তের আওতায় এলে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এদিকে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, ফাইনালকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি
নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার
ভাষ্য, প্রায় ১ হাজার ৬০০
নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন এবং
রাজনৈতিক বা বর্ণবাদী বার্তাসংবলিত
কোনো উপকরণ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে
না।