২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে আবারও শিরোপার জোর দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে ফ্রান্স। শক্তিশালী স্কোয়াড, অভিজ্ঞ কোচিং এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স-সব মিলিয়ে ‘লে ব্লু’দের ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। এবারও যদি তারা ফাইনালে উঠতে পারে, তবে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি গড়বে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পথচলা সমৃদ্ধ ইতিহাসে ভরা। ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এর পাশাপাশি ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার্স আপ হয়ে বড় আসরে ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছে দলটি।
বর্তমান ফ্রান্স দলের বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে, যিনি ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যাও ঈর্ষণীয়—মাত্র দুই আসরেই করেছেন ১২ গোল। এবারের আসরে আরও কয়েকটি গোল পেলেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ওঠার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
এমবাপ্পের সঙ্গে আক্রমণে থাকছেন উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি, মার্কাস থুরামসহ আরও কয়েকজন প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড।
মাঝমাঠেও রয়েছে শক্তির দাপট। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি, আদ্রিয়েন রাবিও এবং অভিজ্ঞ এনগোলো কন্তের সমন্বয়ে ফ্রান্সের মিডফিল্ড ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর। তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞতার এই মিশেল দলটিকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে।
রক্ষণভাগেও ফ্রান্স কম যায় না। উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো, ইব্রাহিমা কোনাতে ও থিও হার্নান্দেজদের মতো ডিফেন্ডাররা ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোতে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। গোলবারে মাইক ম্যাঁইয়াঁর উপস্থিতি দলকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়।
দলের কোচ দিদিয়ের দেশম দীর্ঘদিন ধরে একই কাঠামোয় দল গড়ে তুলেছেন। তার কৌশলগত দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে ঠাণ্ডা মাথার সিদ্ধান্ত ফ্রান্সকে প্রতিবারই এগিয়ে রাখে। সাধারণত ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজালেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে পিছপা হন না তিনি।
তবে সবকিছুর পরও চ্যালেঞ্জ কম নয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো এখন ফ্রান্সের খেলার ধরন সম্পর্কে অনেকটাই অবগত। ২০২৪ ইউরোতে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাই মনে করিয়ে দেয়।
সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, অভিজ্ঞতা, তারুণ্য আর গভীর স্কোয়াড—এই তিনের সমন্বয়ে ফ্রান্স আবারও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার। এখন দেখার বিষয়, এমবাপ্পের নেতৃত্বে তারা ইতিহাস গড়ে টানা তিন ফাইনালে পৌঁছাতে পারে কি না।