লিওনেল মেসি আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন। মেজর লিগ সকারের তিন দশকের পথচলায় তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি টানা দুই মৌসুমে বর্ষসেরা খেলোয়াড় (এমভিপি) হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ মৌসুমে এমএলএস কাপের ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে।
ইন্টার মায়ামি নিয়মিত মৌসুমে সাপোর্টার্স শিল্ড জিততে পারেনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমএলএস কাপ জিতে ইতিহাস গড়েছে। রোববার চেজ স্টেডিয়ামে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩–১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা তুলে নেয় ডেভিড বেকহ্যামের দল। ফাইনালের তিন গোলের দুইটিতেই ছিল মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট।
পুরো মৌসুম জুড়েই মেসির ছন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে তার গোল ২৯টি, অ্যাসিস্ট ১৯টি। আগের মৌসুমের চেয়ে এগিয়ে—২০২৪ সালে তার গোল ছিল ২০, অ্যাসিস্ট ১৬। প্লে-অফেও ছিলেন সমান কার্যকর। ৬ ম্যাচে ৬ গোল, সঙ্গে ৯ অ্যাসিস্ট। ফাইনালে জোড়া অ্যাসিস্ট তো আছেই।
এই মৌসুমে তিনি ভেঙেছেন একের পর এক রেকর্ড। টানা নয় ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোলে অবদান রাখা—এটা এমএলএস ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। একই সঙ্গে এক মৌসুমে ১০ ম্যাচে একাধিক গোল করার কৃতিত্বও তার ঝুলিতে। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুবার মৌসুম শেষে ৩৬-এর বেশি গোল-অবদান (২০২৪ ও ২০২৫) ছুঁয়েছেন তিনি।
ল্যান্ডন ডোনোভান এমভিপি পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৯৬ সাল থেকে। খেলোয়াড়, ক্লাবের টেকনিক্যাল স্টাফ এবং গণমাধ্যমের ভোটে যে ফুটবলারকে সবচেয়ে মূল্যবান ধরা হয়, তিনিই পান এই স্বীকৃতি। মেসি এখন এই পুরস্কার দুবার জেতা দ্বিতীয় খেলোয়াড়—তার আগে প্রেকি জিতেছিলেন ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে।
এ বছর ভোটেও দাপট দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। মোট ভোটে তার গড় ছিল ৭০.৪৩ শতাংশ। সান দিয়েগো এফসির আন্দ্রেস ড্রেয়ার পেয়েছেন ১১.১৫ শতাংশ। গণমাধ্যমের ভোটে মেসি পেয়েছেন ৮৩.০৫ শতাংশ, খেলোয়াড়দের ভোট ৫৫.১৭৪৩ শতাংশ, আর ক্লাবের ভোট ৭৩.০৮ শতাংশ।
পুরো মৌসুমে দাপট, শিরোপা, রেকর্ড—সব মিলিয়ে মেসির জন্য ২০২৫ ছিল আরেকটি স্বপ্নের বছর।