শততম টেস্টে পৌঁছে সেঞ্চুরি দিয়ে দিনটা রাঙালেন মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতে আরেকবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যদের একজন। তার ব্যাটেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সকাল।
এই কীর্তিতে তিনি বিশ্বের মাত্র ১১তম ক্রিকেটার। টেস্ট ইতিহাসে শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি হয়েছে মাত্র ১২ বার, মুশফিক সেই তালিকায় যোগ দিলেন দাপুটে ভঙ্গিতে।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটে ২৯২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শতরান থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে ছিলেন মুশফিক। ১৮৭ বলে পাঁচ চার মেরে ৯৯ রানে তিনি ছিলেন অপরাজিত। তার সঙ্গী লিটন দাসও ব্যাট করছিলেন দারুণ ছন্দে, ৮৬ বলে ২ চারে ৪৭ রানে। এই জুটিতে এসেছে ১৬০ বলে ৯০ রান।
শুরুটা ভালো হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয় বা মুমিনুল হক। দুই অঙ্কেও যেতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের বিপর্যয় সামলে ইনিংসটিকে দাঁড় করান মুশফিক। প্রথমে মুমিনুলকে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি, পরে লিটনের সঙ্গে আরেকটি জমাট পার্টনারশিপ।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটারদের তালিকায় আছেন দুনিয়ার কিছু বড় নাম। ১৯৬৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রেকর্ডের সূচনা করেন ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে। এরপর ১৯৮৯ সালে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ এতে নাম লেখান। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৯ রানের ইনিংস খেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি গর্ডন গ্রিনিজ। পরে আছেন ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট ও পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক, যিনি ২০০৫ সালে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন ১৮৪ রান।
এই তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ২০০৬ সালে নিজের শততম টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে অনন্য হয়ে আছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ১৩১। হাশিম আমলা তার শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে করেন ১৩৪।
ইংল্যান্ডের জো রুট ও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার এই অর্জনকে নিয়ে গেছেন আরও ওপরে। দুজনই করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। রুট ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইতে আর ওয়ার্নার ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঠিক ২০০ রান করেন।
মুশফিক আজ সেই সম্মানজনক সারির অংশ। তার ব্যাটিং শুধু আজকের দিনটাকেই নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসকেও আরও উজ্জ্বল করে রাখল।