রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ খেলা

‘ট্যাটু নয়, মদ নয়, সিগারেট নয়’—বাবার উপদেশেই আলাদা হুলিয়ান আলভারেজ


প্রকাশ :

আর্জেন্টাইন ফুটবলে এখন এক নতুন নাম আলোচনার কেন্দ্র—হুলিয়ান আলভারেজ। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড মাত্র এক বছরেই হয়ে উঠেছেন দলের প্রাণভোমরা। মাঠে গোলের ঝলক, কোচ সিমিওনের অগাধ আস্থা—সব মিলিয়ে তিনি দলের ভরসার নাম। তবে এবার আলোচনার কারণ অন্য—তার শরীরে নেই একটিও ট্যাটু।

আধুনিক ফুটবলে ট্যাটু যেন খেলোয়াড়দের আত্মপ্রকাশের এক মাধ্যম। কারও শরীরে খোদাই থাকে ভালোবাসা, কারও বিশ্বাস বা পরিবারের গল্প। মেসি, ডি মারিয়া, দে পল, লাউতারো—আর্জেন্টিনা দলে ট্যাটুহীন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেই ব্যতিক্রম কেবল আলভারেজ।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড হাসিমুখে বললেন, “দলের ক্যাম্পে অনেকে মজা করে বলছিল, আমার শরীরেই নাকি ট্যাটু নেই একমাত্র! কিন্তু আমি আলাদা হতে চাইনি। ছোটবেলায় বাবা বলেছিলেন—ট্যাটু নয়, সিগারেট নয়, মদ নয়। আজও সেই উপদেশই মেনে চলি।”

এই সরলতা ও সংযমই যেন আলভারেজকে আলাদা করেছে। আধুনিক যুগের তারুণ্য যেখানে বাহ্যিক প্রকাশে বিশ্বাসী, সেখানে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন খেলার মাধ্যমে।

মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার এই স্ট্রাইকারকে কেউই প্রথমে বড় ক্লাবের মূল ফরোয়ার্ড হিসেবে ভাবেননি। কিন্তু আলভারেজ জানতেন, উচ্চতা নয়, মানসিক শক্তিই আসল। তার ভাষায়, “রিভার প্লেটের ট্রায়ালে সবাই আমার গড়ন দেখে হাসছিল। কিন্তু আমি জানতাম, গোলই আমার ভাষা।”

আজ সেই ছোটখাটো ছেলেটাই আতলেতিকোর আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত করেছেন ৯ গোল, লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।

১১ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রায়ালও দিয়েছিলেন আলভারেজ। টুর্নামেন্ট জিতেও পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তার নিজের ভাষায়, “সব কিছুরই একটা সময় আছে।”

রিভার প্লেট থেকে উঠে ম্যানচেস্টার সিটিতে দুই মৌসুমে করেছেন ৩৬ গোল। কিন্তু আর্লিং হলান্ডের আড়ালে থেকে নিজের প্রতিভা পুরোটা প্রকাশ করতে পারেননি। তাই নতুন সূচনার খোঁজে পাড়ি জমান আতলেতিকো মাদ্রিদে।

তিনি বলেন, “আতলেতিকোকে বেছে নিয়েছি কারণ এখানে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ ছিল।”

ট্রান্সফার মার্কেটে তার নাম এখন নিয়মিত ঘুরে বেড়ায়—কখনো বার্সেলোনা, কখনো পিএসজি। কিন্তু এসব গুঞ্জনে ভ্রুক্ষেপ নেই তার। “কে কী বলছে তা নিয়ে ভাবি না। আমার মনোযোগ এখন আতলেতিকোতে। মৌসুম শেষে দেখা যাবে,” বললেন তিনি।

গত বছর ব্যালন ডি’অরের তালিকায় সপ্তম ছিলেন আলভারেজ। এবার ৩০ জনের তালিকায় না থাকলেও তাতে দুঃখ নেই। “বিশ্বের সেরা ৩০ জনের মধ্যে থাকা গর্বের। কিন্তু সুখী হতে প্রশংসার দরকার নেই। ফুটবল খেলাটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ,” বলেন আলভারেজ।