আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনজন স্থানীয় ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—কবির, সিবগাতুল্লাহ ও হারুন। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানিয়েছে, তারা উরগন জেলা থেকে শরানা শহরে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে ফিরে আসার সময় এক সমাবেশে তারা হামলার শিকার হন।
এসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উরগনে ফিরে আসার পর এক সমাবেশে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। এটি পাকিস্তান সরকারের পরিচালিত এক কাপুরুষোচিত ও অমানবিক হামলা।’
এই হামলায় আরও পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনায় গভীর শোক জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উরগন জেলার সাহসী ক্রিকেটারদের শহিদ হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আফগানিস্তান আগামী মাসে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নির্ধারিত সিরিজে অংশ নেবে না।’
আফগান টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক রশিদ খান এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অসংখ্য নারী, শিশু ও তরুণ ক্রিকেটার প্রাণ হারিয়েছেন। যারা একদিন দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে খেলতে চেয়েছিল—তাদের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
রশিদ আরও বলেন, ‘বেসামরিক স্থাপনায় এমন বর্বরোচিত হামলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এই অপরাধের আন্তর্জাতিক নিন্দা ও জবাবদিহি জরুরি।’
তিনি এসিবির সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘নিরপরাধ প্রাণ হারানোর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত সঠিক ও সম্মানজনক। জাতীয় মর্যাদা সর্বাগ্রে থাকা উচিত।’
আরেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী এই ঘটনাকে ‘আফগান ক্রিকেট ও গোটা জাতির জন্য গভীর ট্র্যাজেডি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পেসার ফজলহক ফারুকি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও স্থানীয় ক্রিকেটারদের ওপর এই হামলা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।’
আফগান গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে পাকতিকা প্রদেশের উরগন ও বারমাল জেলায় বিমান হামলা চালায়। আফগান সরকারের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে ইসলামাবাদ দুই দেশের মধ্যে সদ্য হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
তোলোনিউজ জানিয়েছে, হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। সংঘাত নিরসনে দোহায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার কথা ছিল শনিবার।