ঘরের মাঠে সম্ভাব্য শেষবারের মতো খেলতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারিতে তখন প্রায় ৮০ হাজার দর্শক, সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার। এমন আবেগঘন মুহূর্তে সব আলো নিজের দিকে টেনে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মাঠে উজাড় করে দিয়ে জোড়া গোল করলেন, আর সেই গোলেই ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে হারাল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে বুয়েন্স আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে একেবারেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে আলবিসেলেস্তেরা। পুরো ম্যাচে ৭৭ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখে তারা। গোলমুখে ১৭টি শট নেয় স্কালোনির শিষ্যরা, যার মধ্যে ৯টি ছিল সরাসরি লক্ষ্যে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভেনেজুয়েলার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে নিকোলাস তালিয়াফিকোর শট দারুণভাবে ঠেকান ভেনেজুয়েলা গোলরক্ষক রোমো। চার মিনিট পর মেসির প্রথম শটও রুখে দেন তিনি। তবে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আর থামাতে পারেননি। চমৎকার এক চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে গ্যালারিতে আনন্দের ঝড় তোলেন মেসি। বিরতিতে ১-০ লিড নিয়েই যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৭৬ মিনিটে দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে শুরু হয় আক্রমণ। নিকো গঞ্জালেসের ক্রসে মার্টিনেজ হেডে বল পাঠান জালে। ব্যবধান তখন ২-০।
এরপরই আসে মেসির দ্বিতীয় গোল। ৮০ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর সহজ এক ট্যাপ-ইনে বল জালে পাঠান তিনি। এতে চলতি বাছাইপর্বে তার গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৮-এ, যা তাকে লাতিন অঞ্চলের শীর্ষ গোলদাতা বানিয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে হলো ১১৪, যা আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
পুরো ম্যাচ জুড়েই মেসিকে ঘিরে ছিল বাড়তি আবেগ। হয়তো এটিই বুয়েন্স আইরেসে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাই দর্শকদের উল্লাস, পরিবারের উপস্থিতি আর মাঠে জোড়া গোল—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে থাকল স্মরণীয় এক উৎসব।